
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষকের বাবার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় একজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহমেদ আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী রোববার মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী খালিদ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত মাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করলে তিনি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
ঘটনার দিন শিক্ষক রাইসুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম (৬৭) আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার পকেটে থাকা নগদ প্রায় ছয় হাজার টাকা অভিযুক্ত কৌশলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাইসুল। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
এদিকে শুক্রবার আদালতে আসামিকে তোলার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তাঁরা হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।