
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে আরেকজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. বিল্লাল (২৯), আবদুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩১)। আজ সোমবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর আর জিন্নাত নামের একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানান, তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাজধানীর তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় ৭ জানুয়ারি রাতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একের পর এক মামলার আসামি হন এবং বেশির ভাগ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দলীয় রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন।
মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ৭ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিনও তাঁর স্বামী আজিজুর রহমান মুসাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় আড্ডা দেন। আড্ডা শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ১০ মিনিট পর তেজতুরী বাজারের আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে গতি রোধ করে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন তাঁকে গুলি করে। আসামিদের ছোড়া গুলির আঘাতে তাঁর স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ ভুক্তভোগী মুসাব্বিরকে বাঁচাতে গেলে আসামিরা তাঁকেও গুলি করে। আসামিরা তাঁদের মৃত ভেবে পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
গত শনিবার ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন জিন্নাত
জিন্নাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামি জিন্নাতের দায়িত্ব ছিল মূল শুটার রহিমকে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে বের করে আনা। ঘটনার সময় আসামি দুটি গুলি করে। যার মধ্যে একটি ফাঁকা এবং অন্যটি মুসাব্বিরের সাথে থাকা ব্যক্তির গায়ে লাগে। মামলার ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, এ বিষয়ে জিন্নাত জানেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি অনুশোচনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমতাবস্থায় তাঁর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন।