নজরুল (ডানে) ও তারেক
নজরুল (ডানে) ও তারেক

পুলিশের ব্রিফিং

আর্থিক সংকটের কারণে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে, পরে উদ্ধার

১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা বস্তায় করে নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে রাজধানীর পল্লবীর একটি ক্লিনিকের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে গেটের সামনে বসেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে চলে যান।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কারণে নজরুল নিজেই আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য সহযোগী হাসান তারেক ওরফে রিপনের সহায়তায় তিনি অপহরণের নাটক সাজান।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এসব তথ্য জানান।

আজ সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে ‘সি হার্ট-২’ নামের একটি মাছ ধরার জাহাজ থেকে নজরুলকে উদ্ধার করে পল্লবী থানার পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী রিপনকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, নজরুল প্রথমে গাবতলী যান। পরে বাসে চট্টগ্রামের একে খান এলাকায় গিয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কর্ণফুলীর ইছানগরে অবস্থান নেন। পরে ‘সি হার্ট-২’ জাহাজে বাবুর্চির কাজ নেন। সেখান থেকেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার। ১৪ সেপ্টেম্বর

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাক সরকার বলেন, নজরুল ওই ক্লিনিকে ১৬-১৭ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ১৭ হাজার টাকা। তাঁর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ও সুদের টাকা মিলিয়ে তাঁর ছয়–সাত লাখ টাকা দেনা রয়েছে। দুই পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের বিয়ে ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপেও তিনি ছিলেন।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রকৃত অপহরণ নয়, পূর্বপরিকল্পিত আত্মগোপন এবং অপহরণের নাটক বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।