
চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের মামলার এক বাদীকে দুই ঘণ্টা আদালতে আসামির কাঠগড়ায় আটকে রাখা হয়। শুনানি শেষে গ্রেপ্তার তিন ছিনতাইকারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত। এর আগে বাদী সাহাব উদ্দিন তাঁর করা মামলায় গ্রেপ্তার ওই তিনজনকে জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই জানান লিখিতভাবে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহর আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এস এম হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির জামিনের আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবী। একই সময়ে বাদী লিখিত আবেদন করেন, তাঁদের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। পরে বিচারক বাদীকে আসামির কাঠগড়ায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন এবং তিন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় মো. রাকিব নামের এক তরুণের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর চাচা সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীকে আসামি করে মামলা করেন। এতে বলা হয়, সাহাব উদ্দিন চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় ভ্যানগাড়িতে ফল বিক্রি করেন। মাঝেমধ্যে তাঁর দোকানে ভাতিজা রাকিবও বসেন। ১০ আগস্ট বিক্রি বাবদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক গিয়ে তাঁকে ছুরির ভয় দেখিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যান।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ঘটনায় জড়িত তিন ছিনতাইকারী নাঈম উদ্দিন, রমিজ খান ও তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ২ হাজার ৪২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
কেন গ্রেপ্তার তিন ছিনতাইকারীর জামিনে আপত্তি নেই জানিয়েছেন জানতে চাইলে বাদী সাহাব উদ্দিন গতকাল দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে কিছু বলতে রাজি হননি। পরে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাদী ছিনতাইকারীদের ভয়ে তাঁদের জামিনে আপত্তি নেই জানিয়েছেন কি না—প্রশ্নের উত্তরে চান্দগাঁও থানার ওসি খাইরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।