
সেনাসদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তিনি। এদিন মা, বাবা ও ভাইয়ের কবরও জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন তিনি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে ঈদ প্রীতিভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর নিজের পুরোনো ও স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাস এলাকায় এসে অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন তিনি। সেনানিবাসের এই পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহযোদ্ধাসুলভ বন্ধন ও সেনাসদস্যদের আন্তরিকতা তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য তাঁকে গভীরভাবে গর্বিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ২৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
এর আগে সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। প্রথমে তাঁরা দুজন একান্তে কবর জিয়ারত করেন।
এরপর তারেক রহমান বিএনপির নেতাদের নিয়ে মা–বাবার কবরে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। পরে প্রধানমন্ত্রী বনানীতে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবরে যান। সেখানেও ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন তিনি।
সকালে প্রধানমন্ত্রী বনানী সামরিক কবরস্থানে যান। প্রথমে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমান বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর প্রাঙ্গণে যান। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।