ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা

ডেঙ্গুতে আবারও দুজনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এক দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে আবারও মৃত্যু দেখল দেশ। আজ ২৪ জুন সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২২ ও ২১ জুন যথাক্রমে এক ও দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১২ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে চলতি জুন মাসে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দুজন করে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এবং একজন মারা যান মে মাসে। সর্বশেষ দুজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। তাঁরা পুরুষ, বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মারা যাওয়া ১২ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৫ জন নারী।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৬; তারা সবাই কন্যাশিশু। ৬৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ২। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৭ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১২০। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর মধ্যে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের মতো এ বছরও বরিশালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৯, উত্তর সিটিতে ২৮, চট্টগ্রামে ১৬, ঢাকা মহানগরের বাইরে ১১, খুলনায় ১০, রাজশাহীতে ৪ ও ময়মনসিংহে ৩ জন রয়েছেন।

সাধারণত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে। বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘ উষ্ণ সময় ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন সংক্রমণ আগেভাগে শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।