ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোনাফ সিকদারকে গুলি করার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে। গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় করা মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে রাস্তায় নামেন মেয়রের সমর্থক নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরানোর ঘটনায় চার ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে পড়ে পর্যটন শহর কক্সবাজার। সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলামের সঙ্গে।

প্রথম আলো: পর্যটন শহরে হঠাৎ অচলাবস্থা কেন? কার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন?
নজিবুল ইসলাম: জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটা হওয়ার পর তাঁর যাঁরা শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, তাঁরা বিষয়টা মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ–সমাবেশ করেছেন। জেলাপর্যায়ের শীর্ষ একজন নেতা মুজিবুর রহমান। এগুলো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পরবর্তী সময়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মেয়রকে মামলার আসামি করার পেছনে গুলিবিদ্ধ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোনাফ সিকদারকে ব্যবহার করা হয়েছে। এর পেছনে জড়িত দলের একটি প্রভাবশালী চক্র।
প্রথম আলো: জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদারকে গুলি করল কে? রাতের বেলায় তিনি শুঁটকি মার্কেটে গেলেন কেন?
নজিবুল ইসলাম: মোনাফ সিকদার শুঁটকি মার্কেটের যে জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেটা একটি বিতর্কিত স্থান। এই জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছে অনেক আগে থেকে। মোনাফ একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন। কে, কেন তাঁকে গুলি করল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গুলির ঘটনার বিবরণ যাঁরা দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ গুলি করা লোকজনকে চিনতে পারেননি। মোনাফও কাউকে চিনতে পারেননি। এ রকম একটা অস্পষ্ট ঘটনার চার দিন পর পৌর মেয়রকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি করাটা দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মেনে নিতে পারছেন না।
প্রথম আলো: একটা ভিডিও বার্তায় মোনাফ সিকদার গুলি করার পেছনে মেয়রের হাত থাকার কথা বলেছেন। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে...
নজিবুল ইসলাম: মোনাফ সিকদারের একটা ভিডিও আমরা ফেসবুকে দেখেছি, শুনেছি। আমরা যতটুকু জানি, ভিডিও বার্তা প্রকাশের পেছনে একটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আছে। একটি প্রভাবশালী পক্ষ, যারা আগেও মেয়র মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করে লেখালেখি করেছে।
প্রথম আলো: পৌর মেয়রকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করার পেছনে অন্য কোনো রাজনীতি বা কারণ দেখছেন?
নজিবুল ইসলাম: মামলার প্রধান আসামি করার পেছনের কারণ হচ্ছে মুজিবুর রহমানকে বিতর্কিত করা। সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আছে। দলীয় অন্তঃকোন্দলও কাজ করছে। দলের অনেক প্রভাবশালীর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ইচ্ছা আছে। তা ছাড়া মেয়রের সঙ্গে দলীয় কিছু নেতার বিরোধও আছে, যেটি কিছুদিন আগে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের সময় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই বিরোধের মীমাংসা করা হলেও বিরোধীপক্ষ এখনো বিভিন্নভাবে মেয়রকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
প্রথম আলো: পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটকসহ সবার ভোগান্তি হয়েছে...
নজিবুল ইসলাম: মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। নেতা-কর্মীরা গিয়ে সড়কের ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে ফেলেন। তবে পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা মামলা প্রত্যাহার না হলে আজ সোমবার সকাল থেকে সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দলের কিছু করার নেই।