কক্সবাজারে ইউপি নির্বাচন

আ.লীগের ১১ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১৩ জনকে সাময়িক বহিষ্কার

কক্সবাজারে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতাকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের দুটি পৌরসভা (চকরিয়া ও মহেশখালী) এবং টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী হিসেবে ১৬ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দলের অনেকে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এ ব্যাপারে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ সরেও গেছেন। কিন্তু অনেকে মাঠে সক্রিয় আছেন। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক আজ বুধবার ১১ স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং দলের ২ নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের পুনরায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে স্থায়ীভাবে তাঁদের বহিষ্কার করা হবে।

ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, এখনো অনেক ইউনিয়নে দলের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়ে গেছেন। দলের বহু নেতা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে চুপ মেরে আছেন, কিছু নেতা নীরবে অন্য পক্ষ সমর্থন করছেন। তাঁদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ ইউপি চেয়ারম্যান ও দলের দুই নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এ মনজুর। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নূর হোসেন, হ্নীলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দীন আহমদ, মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন, মাতারবাড়ীর বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ, সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক, রুহুল আমিন ও আবদুস সাত্তার, হোয়ানক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা মীর কাসেম, ওয়াজেদ আলী, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের সিরাজ উদ্দৌলা এবং পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহীদুল্লাহ।

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থায় নেওয়ায় মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহামদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাময়িক বহিষ্কারের পর তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিলে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে সুপারিশ করবে জেলা আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে “৩৩ ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, নৌকা ঠেকাতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গোপনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এতে নৌকা প্রতীকের কিছু দলীয় প্রার্থী পড়েন বিপাকে।