
ঈদের ছুটিতে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে ছোট ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিন যুবক। পথে ট্রাকের ভেতরই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তাঁরা। পরে ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী তাঁদের বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কের রাজাপুর এলাকার পাশে ফেলে রেখে চলে যান।
আজ বুধবার ভোররাত চারটায় উপজেলার সনকা এলাকা থেকে ওই যুবকদের উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন নওগাঁ জেলার মান্দা থানার ভদ্রসেনা গ্রামের আবদুল জলিল (২৮) ও জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার কল্যাণ সরকার (২৬)। অপরজন (৪২) অচেতন থাকায় তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নার্স বলেন, আজ বেলা ১১টায় দুজনের জ্ঞান ফিরে আসে। তাঁদের একজন আবদুল জলিল, অপরজন কল্যাণ সরকার। দুর্বৃত্তরা নেশাজাতীয় দ্রব্য এই তিন যুবকের নাকে ধরে অচেতন করেছিল। তাঁরা তিনজনই এখন আশঙ্কামুক্ত।
জ্ঞান ফিরে পাওয়া আবদুল জলিল বলেন, তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁর কাছে ছিল নগদ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন। মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চন্দ্রা থেকে একটি ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকের ভেতরে যে অজ্ঞান পার্টির লোকজন ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
কল্যাণ সরকার বলেন, তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি ট্রাকের বাংলায় বসে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর কাছে ছিল নগদ সাড়ে ১৭ হাজার টাকা। তিনি যে ট্রাক এসেছেন, তাতে ছিল ১২ জন যাত্রী। জ্ঞান ফিরে দেখেন, তাঁর সবকিছুই হারিয়েছেন।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই তিন যুবককে মহাসড়কের রাজাপুর এলাকায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এই অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের অনুসন্ধানে নেমেছে থানা-পুলিশ।