
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৯ ডিসেম্বর একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তরুণ সাজেদুল ফয়সাল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘একদিন মরে যাব ড্রেনে পড়ে, খুঁজলেও আর পাবে না’। এটি ছিল ফেসবুকে তাঁর লেখা শেষ স্ট্যাটাস। এ স্ট্যাটাসই এখন কাঁদাচ্ছে বন্ধু ও স্বজনদের।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পথেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল ও ভটভটির সংঘর্ষে নিহত হন ফয়সাল। ফেসবুকে তাঁর লেখা স্ট্যাটাসের নিচে বন্ধু-স্বজনেরা শোক প্রকাশ করছেন।
মো. ফাহিম নামের একজন লিখেছেন, ‘ড্রেনে না পড়লেও ঠিকই তুমি বাইক দুর্ঘটনায় মারা গেলে’। সোহান ইসলাম লিখেছেন, ‘ভাই, তোমার কথার সাথে মিলে গেছে’। আর মো. ইসমাইল লিখেছেন, ‘কী বলব ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, দোয়া করি যাতে আল্লাহ তোমাকে জান্নাত নসিব করে’।
ফয়সাল চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর বন্ধু ও ওমানপ্রবাসী আকিব হোসেন। তাঁদের দুজনের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের নটুয়ারটিলা গ্রামে। তবে ফয়সাল চট্টগ্রাম নগরীতে থাকতেন। বাবা আবদুস সালাম ওমানপ্রবাসী। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফয়সাল সবার ছোট।
থানা-পুলিশ ও ফয়সালের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফয়সালকে নিয়ে তাঁর বন্ধু আকিব গতকাল দুপুরে ফটিকছড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফয়সাল গাড়ি চালাচ্ছিলেন আর আকিব পেছনে বসেছিলেন। ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত আটটার দিকে ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
গতকাল রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাজেদুল ফয়সালের লাশ রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। তাঁর পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে এখন মাতম চলছে। আজ বৃহস্পতিবার জোহর নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।