এসআইকে জখম করার অভিযোগে স্ত্রী কারাগারে

কারাগার
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে পুলিশের এক এসআইকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রীর নামে মামলা হয়েছে। তাঁকে আজ শুক্রবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

ওই এসআইয়ের নাম ইফতেখার আল আমিন (৩৫)। তিনি রাজশাহী নগরের মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ। তিনি ২০১০ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরিতে ঢোকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তাঁর স্ত্রীর বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তাঁরা রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে বাসাতেই ঘুমিয়ে ছিলেন ইফতেখার। এ সময় তাঁর স্ত্রী চাকু দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ইফতেখারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাঁকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের কাছে ইফতেখার আল আমিনের স্ত্রী স্বামীর লিঙ্গ কর্তনের কথা স্বীকার করেছেন। লিঙ্গের খণ্ডিত অংশও বের করে দিয়েছেন। অন্য নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে তোলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ কাজ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘটনার পরই তাঁকে (স্ত্রী) আটক করা হয়।

রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ প্রথম আলোকে বলেন, ইফতেখারের স্ত্রীর অভিযোগ তাঁর স্বামীর অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এই ক্ষোভে তিনি তাঁর স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন। পুলিশের কাছে আগে কেন অভিযোগ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন তাঁর স্বামী তো ‘জাদুকর’ তাঁকে ধরা যায় না। এই ধরনের অভিযোগ করলে কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু তাঁর উপায় ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ আরও বলেন,  এ ঘটনায় এসআই ইফতেখার আল আমিনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। গতকাল রাতেই ওই এসআইয়ের বাবা বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।