রেলপথ নির্মাণ

কবি ফররুখ আহমদের ভিটা রক্ষায় হবে উড়ালসেতু

কবি ফররুখ আহমদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির পাশে লাল নিশান পুঁতে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক ছবি
প্রথম আলো

কাঠের বেড়া ও টিনের চালার ঘরটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি। সেখানে জন্মেছিলেন কবি ফররুখ আহমদ। সেই ঘরের দরজায় পড়েছে লাল কালির একটি তীর চিহ্ন। গত ২৮ মে কবির এই জন্ম ভিটার তিন পাশে তিনটি লাল নিশান পুঁতে দিয়ে গেছে সরকারি সংস্থার লোকজন।

ফরিদপুরের মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত নতুন রেললাইন প্রকল্পের যে কাজ শুরু হয়েছে, লাল নিশান এরই অংশ। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, কবির বাড়ি অক্ষত রেখেই স্থাপন করা হবে নতুন রেললাইন।

গত ২৭ মে ভার্চ্যুয়াল এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মাগুরা জেলার এই অংশে রেললাইন যাবে কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটার ওপর দিয়ে।

মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে পরিচিত ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মধুমতী নদীর তীরঘেঁষা এই গ্রামেই কবির পূর্বপুরুষের আদিবাস। রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় কবির স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ফররুখ আহমদের পরিবারের সদস্যরা জানান, কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর ভাতিজি সৈয়দা দিলরুবা বলেন, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে তাঁরা আবেদন করেছেন। অন্য জায়গা দিয়ে রেললাইন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কবির ছেলে সৈয়দ মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রেললাইন মাগুরার মানুষের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাড়িটি রক্ষা করাও জরুরি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে, কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি রক্ষা করে রেললাইন স্থাপন করা হোক।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম বলেন, কবি বাড়ির স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে রেললাইনের নকশা পরিবর্তন করেছে মন্ত্রণালয়। কবির বাড়ির পাশ দিয়ে উড়ালসেতুর মাধ্যমে রেললাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়লেও কবির বাড়ির কোনো স্থাপনা ভাঙা পড়বে না।

জানতে চাইলে মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক আসাদুল হক বলেন, রেললাইন যাবে কবির বাড়ির পাশ দিয়ে। স্থাপনাটি অক্ষুণ্ন রাখতে ওই অংশের লাইন যাবে উড়ালসেতু হয়ে।