
বিশ্বজুড়ে ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানানোর রাত থার্টি ফার্স্ট নাইট (৩১ ডিসেম্বর) ঘিরে থাকে কোটি মানুষের উচ্ছ্বাস। দেশের ভেতরে এ উদ্যাপনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। তবে এ বছর করোনা অতিমারী পরিস্থিতিতে ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনে রয়েছে ভাটা। পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনের কড়াকড়িও। এরপরও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন বছর ২০২১-কে বরণ করে নিতে লোকজন এসেছেন কুয়াকাটায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২০ সালের শেষ দিনটিকে বিদায় জানাতে বিকেল থেকেই সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে। আজ শুক্র ও কাল শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই ঘরে বসে থাকতে পারেননি। করোনা সতর্কতা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেও যে যাঁর মতো করে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সৈকতে জড়ো হতে থাকেন। তবে প্রতিবছর যেভাবে বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, করোনাকালের কারণে এবার তা নেই। পর্যটকের সংখ্যাও এবার কম। দেশের অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে সৈকতে এবার আশপাশের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার মানুষজনের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়।
সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ইকো পার্ক, লেম্বুর চর, শুঁটকিপল্লি, রাখাইন মহিলা মার্কেটসহ আকর্ষণীয় সব পয়েন্টেই পর্যটক-দর্শনার্থীরা দুপুর থেকে ঘুরেফিরে সময় কাটান। খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, টি-কর্নারগুলোতে উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
কুয়াকাটার ১৫০টির মতো আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোটেল-মোটেলে এবার পর্যটক উঠেছেন খুবই কম। পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যেসব পর্যটক কুয়াকাটায় এসেছেন, তাঁদের জন্য হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ কক্ষ ভাড়ায় এবার বড় অঙ্কের ছাড় দিয়েছেন। বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল কক্ষ অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে এবার।
করোনাকালের জন্য পর্যটকেরা সৈকতে একত্রে জড়ো হয়ে কোনো আয়োজন করতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে কুয়াকাটার সব হোটেল-মোটেলকে বলে দিয়েছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আয়োজন যেন না করা হয়। এ ছাড়া তাঁরা কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছেন, কুয়াকাটায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য পর্যটকেদের যা অনুসরণ করতে হবে বলে জানান তিনি।
গাজী শওকত হোসেন নামের এক পর্যটক বললেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে আমরা পরিবারের সবাই ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় চলে এসেছি। বছরের শেষ দিনটাতে সাগরের বিশাল জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে পুরোনোকে বিদায় জানালাম। আর নতুন বছরকে স্বাগত জানালাম। সেই সঙ্গে কায়মনোবাক্যে বললাম, করোনাকাল কেটে যাক। বিপর্যস্ত পৃথিবী প্রাণ ফিরে পাক। প্রত্যেক মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসুক। বাসযোগ্য পৃথিবীটা হোক অনিন্দ্যসুন্দর।’
গতকাল সন্ধ্যার পরে কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে পর্যটকদের কেউ কেউ আতশবাজি, ক্যাম্প ফায়ার করে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তা ছাড়া পর্যটকেরা নেচে-গেয়ে মাতিয়ে তোলেন সৈকত। তবে সৈকতে রাতের বেলা আলোর ব্যবস্থা না থাকা, ফটোশিকারি ও মোটরসাইকেলচালকদের উৎপাতে কিছুটা ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলেন সব শ্রেণির পর্যটক।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক খান মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘কুয়াকাটাতে বারবার ফিরে আসি। আগামী দিনগুলোতেও আসব। দুঃখের বিষয় হলো এখানে কোনো ধরনের সেবা নেই। যে যেভাবে পারছে ব্যবসা করে নিচ্ছে। তা ছাড়া সৈকতটিতে কোনো সৌন্দর্য নেই। ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে যত্রতত্র। সৈকতে নামলেই পিছু নেয় ফটোশিকারি লোকজন। ওদের উৎপাতে কোথাও দাঁড়ানো যায় না। খাবারসহ সব সেবারই মান বাড়ানো উচিত।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলো সারা বছরই বলতে গেলে খালি থাকে। মৌসুমে অথবা বিশেষ দিনগুলোতে পর্যটকের আগমনের ওপরই এর লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে। তবে এ বছর সে রকম লাভ হবে বলে মনে হয় না। এরপরও আগামী বছরে ভালো কিছুর আশায় বুক বেঁধে আছেন তাঁরা।