কুমিল্লায় ঈদবাজার

খাদি দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

পুরুষদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া ও নারীদের থ্রি-পিস ও শাড়ির চাহিদা বেশি। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মানুষ খাদির পোশাক বেশি কিনছেন।

ঈদ উপলক্ষে খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাক কেনার জন্য দোকানে ভিড় করেন ক্রেতারা। গতকাল কুমিল্লা শহরের পূর্বাশা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

করোনাকালেও পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কুমিল্লা নগরের খাদি কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অন্যান্য পোশাকের তুলনায় খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাকের দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় নানা শ্রেণির মানুষের কাছে এর কদর বেশি।

খাদি কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাকের মধ্যে পুরুষের চাহিদা পাঞ্জাবি ও ফতুয়া ও নারীদের থ্রি-পিস ও শাড়ি। এর বাইরে বিছানার চাদর, জামা, থান কাপড় ও নকশিকাঁথার চাহিদাও কম নয়। বরাবরের মতো এবারও ঐতিহ্য ও চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে নানা ধরনের নকশায় খাদি কাপড়ে বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরের মনোহরপুর, কান্দিরপাড় ও রাজগঞ্জ এলাকার খাদি দোকান ঘুরে ওই দৃশ্য দেখা গেছে।

কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ খাদিঘর, বিশুদ্ধ খদ্দর ভান্ডার, আবরণী, প্রসিদ্ধ খাদি ভান্ডার, কান্দিরপাড় এলাকার খাদি মিউজিয়াম, নিপুন খাদি ফ্যাশন, খাদি বিপণি, কুমিল্লা খাদি ভান্ডার, খাদি প্রিয়াঙ্গন, খাদি কুটিরশিল্প ভবন, খাদি ইয়াছিন বস্ত্রালয়, কুমিল্লা খদ্দর, খাদি শিল্প ভবন, খাদি কটেজ, শিল্পী খাদি বিতান, খাদি বস্ত্র বিতান, পূর্বাশা গিফট অ্যান্ড খাদি-১, জ্যোত্স্না স্টোর, খাদি বসুন্ধরা, শুভেচ্ছা খাদি বিতান, আল আমিন খাদি ঘর, খাদি বস্ত্রালয়, খাদি বস্ত্র বিতান, মনোহরপুর এলাকার পূর্বাশা গিফট অ্যান্ড খাদি-২, দোকানে খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাক দেদার বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক রুচিশীল পোশাক তৈরি করে আনা হয়েছে। মিহি সুতার সঙ্গে মোটা সুতার ব্র্যান্ড, কখনো খাদির সঙ্গে রকমারি সুতার চেক বুনে কাপড়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এর মধ্যে ব্লক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সুন্দর পোশাক। দামও মোটামুটি নাগালের মধ্যে।

সাদা ও রঙিন পাঞ্জাবির দাম সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। মেয়েদের থ্রি–পিচ ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। শর্ট ফতুয়া ২২০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শাড়ি ৪০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। জামা (শার্ট) ২৫০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত। বিছানার চাদর ১৮০ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত, নকশিকাঁথা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৮ হাজার ২৫০ টাকার মধ্যে।

বিশুদ্ধ খদ্দর ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছিল। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি বেড়েছে। এবার একটু দাম বেশি।

বেলা ১১টায় কান্দিরপাড় পূর্বাশা গিফট অ্যান্ড খাদি দোকানের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষের জটলা। ভেতরে ক্রেতা গিজগিজ করছে।

কান্দিরপাড় কুমিল্লা খদ্দরের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘খাদির বিক্রি সারা বছরই থাকে। ঈদে বেশি হয়। এবার করোনাভাইরাসের কারণে প্রথমে ক্রেতা কম ছিল। এখন বেড়েছে।’

খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, ‘একসময় খাদি কাপড় অনেক ভারী ছিল। এখন ওই কাপড় প্রতিনিয়ত মিহি করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম আসল খদ্দরকে নিয়ে চিন্তা করছে। তাঁরা গবেষণা করছেন। তাঁদের হাত ধরেই নানা ধরনের নকশা তৈরি করে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া তৈরি হচ্ছে।