
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী লঞ্চ অভিযান-১০-এ করে বাড়ি ফিরছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উত্তর কিসমত শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. জাহানারা বেগম (৪২)। স্বামী মো. সেলিম আকনকে নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলেন। লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ আছেন জাহানারা। আর সেলিম গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
জাহানারা বেগমের বড় ভাই মো. মুজাফফর হাওলাদার বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুজনে কয়েক দিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। ওই লঞ্চেই ছিলেন তাঁরা। আমার ভগ্নিপতি মো. সেলিম আকন অগ্নিদগ্ধ হয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে গেছেন। তবে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশসহ শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমার বোন জাহানারা বেঁচে আছে কি না, আমরা এখনো জানি না।’
উত্তর কিসমত শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সাফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, সহকারী শিক্ষক জাহানারা বেগম নিঃসন্তান। ২১ ডিসেম্বর ছুটি নিয়ে চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কিসমত শ্রীনগর গ্রামে।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে শতাধিক যাত্রী চিকিৎসাধীন। গুরুতর দগ্ধ কয়েকজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ওই লঞ্চে মির্জাগঞ্জের কোনো ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ বা নিখোঁজ আছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।