ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ

গাজীপুরে দুই মহাসড়কে মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ—দুই মহাসড়কেই আজ বুধবার সকাল থেকে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেড়েছে। দূরপাল্লার কিছু যাত্রীবাহী বাস চলতে দেখা গেছে। তবে সেটি ছিল খুবই কম। যানবাহনের স্বল্পতার কারণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের ভিড় লেগে আছে। একই অবস্থা গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া এলাকায়।

গাজীপুরে প্রায় দেড় হাজার শিল্পকারখানা আছে। সব কারখানায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোনো কারখানা ১০ দিন, কোনো কারখানা সর্বোচ্চ ১২ দিন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছে। এ কারণে আজ সকাল থেকে মহাসড়কে মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। এসব শ্রমিক ভাড়া কয়েক গুণ বেশি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন বাড়ি।

সকাল সাড়ে আটটায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে মানুষ আর মানুষ। যেকোনো মূল্যে মানুষ বাড়ি ফিরতে চান। গাদাগাদি করে কেউ ট্রাকে, কেউ পিকআপ ভ্যানে, কেউবা মোটরসাইকেল ভাড়া করে রওনা দিয়েছেন বাড়ির উদ্দেশে। কারও মধ্যে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা নেই।

ছমিরন খলিফা যাচ্ছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ। তিনি কাজ করেন সাভারের একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি যাচ্ছেন কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০ দিন ছুটি পেয়েছি। তাই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।’
সাইনবোর্ড এলাকা থেকে রওনা হয়ে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে পৌঁছানো মুন্নী আক্তার বলেন, ‘একটা মাত্র ঈদ। বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করে। বাচ্চারা গ্রামে থাকে। গার্মেন্টসে চাকরি করি, বড় কোনো ছুটি পাই না। ঈদে বাচ্চাদের ছাড়া এখানে একা ঈদ করা সম্ভব না, তাই বাড়ি যাচ্ছি।’

শেষ মুহূর্তে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা। গত রাত থেকে সৃষ্টি হওয়া যানজট আজ ভোর থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহর থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীরা করোনার ভয়, ভোগান্তি উপেক্ষা করে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে গতকাল থেকে পোশাক কারখানায় ছুটি হওয়ায় শ্রমিকদের স্রোত এখন রাস্তায়। গাড়ি না পেয়ে যে যার মতো পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকে উঠে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।

সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর গোলাম ফারুক বলেন, কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। সেই তুলনায় রাস্তায় নেই যানবাহন। এ ছাড়া ছোট ছোট পরিবহন বেশি চলার কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে নবীনগরের দিকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে যানজট নিরসনের জন্য গাজীপুর জেলা হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ নিয়োজিত আছে।