প্রকল্পের ঘরে অনেক উপকারভোগী থাকছেন না। ফলে পরিত্যক্ত থাকায় নষ্ট হচ্ছে আশ্রয়ণের ঘর।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ নিয়ে ঘর ভাড়া দেওয়া, এমনকি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের ঘরে অনেক উপকারভোগী থাকছেন না। ফলে পরিত্যক্ত থাকায় নষ্ট হচ্ছে আশ্রয়ণের ঘর।
ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালে বাস্তবায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের জন্য নির্মাণ করা হয় ১০৯টি আধা পাকা ও টিনশেড বাড়ি। একই বছর ইউনিয়নের ভূমিহীন ও দুস্থদের মধ্যে ঘরগুলো বরাদ্দ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে যাঁদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বরাদ্দ পাওয়ার পর আশ্রয়ণের বাড়িতে ওঠেননি।
প্রকল্পের ১/৫ নম্বর ঘর নাসিমা বেগম, ৮/৩ নম্বর ঘর মো. বাবু, ১৫/২ নম্বর ঘর বুলবুল, ১১/১ নম্বর ঘর আব্বাছ আলী, ১১/৪ নম্বর ঘর ছকিনা বেগম, ২১ নম্বর টিনশেড বাড়ি হোসনে আরা ঢেপো, ৬ নম্বর ঘর আছিউল, ৭ নম্বর ঘর হাকিম, ১৯ নম্বর ঘর সেকেন্দার আলী এবং ২৩ নম্বর ঘর মঞ্জু
আরার নামে বরাদ্দ হয়। কিন্তু তাঁরা নিজেরা না
থেকে ওই ঘরগুলো ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, যেসব বাড়ি বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো হচ্ছে ৭/৩ (নূর ইসলাম), ১২/৫ (আকলিমা), ৩/৫ (জাহিদুল ইসলাম) ও ৯/২ (খলিল নম্বর)।
আশ্রয়ণের বাড়ি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে উপকারভোগী নূর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কোনো বাড়ি বিক্রি করিনি। তবে আমি যেহেতু ওই বাড়িতে থাকি না, তাই বাড়িটি আত্মীয়কে থাকতে দিয়েছি।’ তিনি এ বিষয়ে আর কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
বোতলাগাড়ী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন মোবারক হোসেন (৪২)। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের রানীবন্দরে। গভীর রাত পর্যন্ত সৈয়দপুর শহরে তিনি রিকশা চালান। প্রতিদিন বাড়িতে যাতায়াতে তাঁর সমস্যা হতো। তিনি ছকিনা বেগমের কাছ থেকে ঘরটি ভাড়া নিয়েছেন। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছেন তিনি। আশ্রয়ণে স্বল্প টাকায় ঘর ভাড়া পেয়েছেন। তাই স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে এখন সেখানেই থাকছেন। আশ্রয়ণের ঘর ভাড়া নেওয়া যায় কি না, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অল্প ভাড়ায় থাকতে পারছি, এটাই আমার কাছে বড় কথা। তিনি কীভাবে আমাকে ভাড়া দিয়েছেন, তা আমি জানি না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়ে না থাকা, ভাড়া কিংবা বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এমনটি করে থাকেন, তবে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’