অবশেষে কফিল উদ্দিনের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা আটকে দেওয়া বেড়া পুলিশের উপস্থিতিতে সরানো হয়েছে। ভোট নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথ বেড়া দিয়ে আটকে দেন প্রতিপক্ষ এক প্রার্থীর লোকজন। আজ রোববার রাস্তা থেকে সেই বেড়া সরিয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাবুর আলীর বাড়িতে যাতায়াতে কেউ যেন বাধা না দেন, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কফিল উদ্দিন ও বাবুর আলীর বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিংদহ গ্রামে। গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে দুই প্রার্থীর লোকজন প্রতিপক্ষ দুই কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেন। তাঁদের মধ্যে কফিল উদ্দিনের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তায় দেওয়া হয় বেড়া। আর বাবুর আলীর বাড়িতে প্রবেশে মৌখিকভাবে বাধা দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ৩ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার জানান, সংবাদপত্রের খবর দেখে আজ তাঁরা ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠান। সেখানে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া হোসেন জানান, কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি আজ দুপুরে সিংদহ গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে একজনের চলাচল বন্ধ করতে রাস্তায় বেড়া দিয়ে আটকে দিতে দেখেন। তিনি গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বেড়াটি অপসারণের ব্যবস্থা করেন। নতুন করে কেউ যেন কারও পথ না আটকায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে গত ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। তাঁদের মধ্যে মণ্ডল পরিবার থেকে ভোট করেন ইউনুচ আলী মণ্ডল, আর বিশ্বাস পরিবারের পক্ষ থেকে ভোট করেন লিটন বিশ্বাস। বিশ্বাস পরিবারের এক সদস্য কফিল উদ্দিন বিশ্বাস ভোট করেন মণ্ডল পরিবারের ইউনুচ আলীর। আর মণ্ডল পরিবারের সদস্য বাবুর আলী মণ্ডল ভোট করেন লিটন বিশ্বাসের। ভোটে উভয়কে পরাজিক করে নির্বাচিত হন শেখ পরিবারের কওছার আলী।
এ নিয়ে বিশ্বাস পরিবারের প্রার্থীর সমর্থকেরা কফিল উদ্দিনের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা আটকে দেন। আর মণ্ডল পরিবারের লোকজন বাবুর আলী মণ্ডলের ফসলের গাড়ি বাড়িতে প্রবেশের সময় বাধা দেন।