আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তে পাঁচটি কক্ষ পরিত্যক্ত ও ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ১৬টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। গতকাল
ছবি: প্রথম আলো

ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে গেছে ভেতরের ইট। পিলারে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ জরাজীর্ণ অবস্থা গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের। এ ভবনের ১৬টি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ। এখানেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান করা হচ্ছে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আতঙ্কে আছেন।

গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৬৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখায় ২০ জন শিক্ষক ও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৮৫ সালে হাইস্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হয়েছে। তখন থেকে স্কুল শাখার ১৭ জন শিক্ষক বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাচ্ছেন।

কয়েকজন শিক্ষক আরও বলেন, ১৯৬৮ সালে ২২ কক্ষের দ্বিতলবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ভবনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তে ২২টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে পাঁচটি কক্ষ পরিত্যক্ত ও ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ ও ২০১৬ সালে দুই ধাপে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার জন্য গাইবান্ধা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ভবনে ফাটল। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করছে। ফলে পাঠদানের সময় শিক্ষকদের আলোচনায় তারা মনোযোগ দিতে পারছে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বারবার তারা শিক্ষকদের অনুরোধ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে ক্লাস নেওয়া উচিত নয়। তারপরও ১২ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে পড়াতে হচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও অভিভাবক জিয়াউর রহমান বলেন, শ্রেণিকক্ষ পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে। এতে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। একই এলাকার আবদুর রউফ বলেন, ‘ক্লাসের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে?’

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী সরকার বলেন, মূল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য বিকল্প স্থানে ক্লাস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবন সংস্কারের বিষয়ে গত বছরের অক্টোবরে জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র, গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। ভবনটি সংস্কারের জন্য বারবার তাদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহমেদ বলেন, গত মাসে ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।