কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি জায়গার কথা নথিপত্রে যে পরিমাণ উল্লেখ আছে, বাস্তবে তা নেই।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি জায়গার কথা নথিপত্রে যে পরিমাণ উল্লেখ আছে, বাস্তবে সেই পরিমাণ জায়গা নেই। ওই জায়গা বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সদরের থানা রোডে ওই জায়গায় থাকা একটি গুদামের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও জরাজীর্ণ থাকায় গুদামটি থেকে চুরি হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রমতে, ১৯৬৮-৬৯ সালে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকার ওই এলাকার ৩০ নম্বর দাগের ৩০ শতক জায়গা থেকে ২৪ শতক জায়গা কৃষি কার্যালয়কে প্রদান করে। সেখানে উপজেলা কৃষি বিভাগ ভবন নির্মাণ করে। ভবনটি সার, বীজ ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আশির দশকের শেষের দিকে কৃষি বিভাগ সেখানে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে জনবল প্রত্যাহার করে নেয়। কয়েক বছর কৃষি বিভাগ থেকে ভবন ও এর ভেতরে থাকা মালামাল পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। একপর্যায়ে সরিয়ে নেওয়া হয় সেই পাহারা। তালাবদ্ধ রাখা হয় ঘর, যা প্রায় ২০ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝেমধ্যেই ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিস চুরি হচ্ছে।
প্রায় আট মাস আগে ওই জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কৃষি বিভাগ। এ জন্য জায়গা পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে কৃষি বিভাগ জানতে পারে, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ২৪ শতক জায়গা নেই। এতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ থেমে যায়।
জমি পরিমাপে অংশ নেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানে কৃষি বিভাগের জায়গা কম রয়েছে। ভবনের আশপাশে অনেক নতুন ভবন হয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে কৃষি বিভাগের জায়গা থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনটির উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের উপকরণ ও রিকশা-ভ্যান দিয়ে ভবনটির আশপাশে ঘিরে রাখা। পূর্ব পাশে রাস্তার সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষ আস্তাকুঁড় স্থাপন করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুজন বাসিন্দা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ওই জমির দাম ১০ কোটি টাকার বেশি হবে।
কৃষি বিভাগের গুদামের দক্ষিণ পাশের একটি ভবনের মালিক বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, দলিলে তাঁর ৬ শতক জায়গা থাকলেও বাস্তবে পৌনে ৬ শতাংশ দখলে রয়েছে। তাঁদের দখলে কম থাকা জায়গা কোথায় আছে, তা জানা দরকার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, ‘সরকারকে আমরা ২৪ শতক জায়গার খাজনা দিয়ে আসছি। ওই জায়গায় বাউন্ডারি করার জন্য সার্ভেয়ার দিয়ে মাপা হয়েছিল। জায়গা কম থাকায় আবার মাপতে হবে। জায়গা কম থাকায় বাউন্ডারি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। আবার জায়গা মেপে বাউন্ডারি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’