
দিনাজপুরে থেকেছেন কিংবা বেড়াতে এসেছেন, প্রায় সবারই এক টাকার শিঙাড়ার কথা মনে থাকার কথা। মুখরোচক এই খাবার স্থানীয়ভাবে খুবই পরিচিত। দোকানে, অফিসে, স্কুল-কলেজে বন্ধুদের আড্ডায় এই শিঙাড়ার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এর কারিগর ছিলেন সচীন কুমার ঘোষ
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টায় সচীন কুমার না–ফেরার দেশে চলে গেছেন। দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়সংলগ্ন শহরের চকবাজার এলাকায় ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এক টাকার শিঙাড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন সচীন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
সচীনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পায়ের হাড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার পর তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। কয়েক দিন ধরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল রাতে তাঁকে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। আজ দুপুরে শহরের ফুলতলা শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য করা হয়।
সচীনের মৃত্যুতে স্থানীয় সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমসহ স্থানীয় সুধীজন শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন অনেকে।
বড়–ছোট সবাই সচীনকে ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টা চকবাজারে শিঙাড়া বিক্রি করতেন সচীন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দিনেও তিনি এক টাকায় শিঙাড়া বিক্রি করেছেন। সচীন বলতেন, এক টাকায় তিনি চারটি শিঙাড়া কিনেছেন। সেখানে বর্তমানে একটি শিঙাড়ার দাম পাঁচ-আট টাকা। অনেকের কেনার সামর্থ্য নেই কিন্তু মুখরোচক খাবারটি খেতে মন চায় তাঁদের, এ জন্যই কম দামে তিনি শিঙাড়া বানান।