দুদিন পর মুচলেকা দিয়ে রিকশা ফেরত পেলেন আনিস শেখরা

নিজ নিজ বাহন বুঝে নিয়ে থানা থেকে বের হচ্ছেন চালকেরা। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ফটকে
ছবি: সংগৃহীত

আটকের ৪৮ ঘণ্টা পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনের বাহনটি ফেরত পেয়েছেন কুষ্টিয়ার আনিস শেখরা। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে তাঁদের রিকশাগুলো ফেরত দেওয়া হয়। তবে এ জন্য দিতে হয়েছে মুচলেকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। কুষ্টিয়া মডেল থানার এক পরিদর্শক প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বুধবার রমজানের প্রথম দিন ও নববর্ষের দিনে দেশে কড়া লকডাউন শুরু হয়। এ সময় সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কে রিকশা চালানোর অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ৩৬টি রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক আটক করে। পরে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেগুলো ছাড়া হচ্ছিল না।

এ নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘রিকশা ফেরত পাওয়ার আশায় আনিস শেখরা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে ভিডিও চিত্রও তুলে ধরা হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওই পরিদর্শক বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক করা বাহনগুলো তাঁদের মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে দুটি বাদে সব কটি বাহন ফেরত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল বুধবার আটক করা ৩৬টি ও বৃহস্পতিবার আটক করা ১৬টি বাহন। দুটি বাহনের মালিক না আসায় সেগুলো থানাতেই আছে।

রিকশা ফেরত পাওয়ার আশায় ফুটপাতে বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন রিকশাচালক আনিস শেখ ও তাঁর পাশে আরেকজন। গত বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে

থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, প্রত্যেক রিকশার মালিকদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুজন স্বাক্ষীর মাধ্যমে মুচলেকা লিখে নেওয়া হয়। তাতে লেখা ছিল, লকডাউনের মধ্যে তাঁরা সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কে বাহন নিয়ে বের হওয়ায় তাঁদের বাহনগুলো আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের জিম্মায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন হয়নি। আরেকটি কথা লেখা রয়েছে, ভবিষ্যতে লকডাউন চলা অবস্থায় ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি আদেশ মেনে সড়কে আর রিকশা চালাবেন না তাঁরা।

দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে রিকশা ও ইজিবাইকের চালকেরা তাঁদের নিজ নিজ বাহনগুলো নিয়ে থানার ভেতর থেকে বের হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। এ সময় থানার প্রধান ফটকের সামনে একজন উপপরিদর্শক ও একজন পুলিশ সদস্য তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করে বের করে দেন।