নওগাঁর একটি গ্রাম স্বেচ্ছায় 'লকডাউনে'

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নওগাঁ সদর ‍উপজেলার রামরায়পুর সরদারপাড়া গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় `লকডাউন`করেছেন গ্রামটিকে। গ্রামের প্রবেশমুখ বন্ধ করে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তোলা। ছবি: প্রথম আলো
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নওগাঁ সদর ‍উপজেলার রামরায়পুর সরদারপাড়া গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় `লকডাউন`করেছেন গ্রামটিকে। গ্রামের প্রবেশমুখ বন্ধ করে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নওগাঁ সদর উপজেলার রামরায়পুর সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় গ্রামটিকে 'লকডাউন' করেছে। গ্রামটির প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ গ্রাম থেকে বের হচ্ছেন না। আবার বাইরের কাউকেও গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

গ্রামবাসী জানান, গ্রামটিতে প্রায় ৮০ পরিবারের ৪০০-৫০০ মানুষের বসবাস। দেশে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ার পর সরদারপাড়া যুব সমিতির সদস্যদের সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রামের লোকজন সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা ভেঙে আশপাশের গ্রামের লোকজন প্রায়ই তাদের গ্রামে আড্ডা দিতে আসনে। এতে গ্রামের লোকজনের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরদারপাড়া যুবক সমিতির সদস্যরা নিজেদের গ্রামকে অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তাঁদের গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদেরও বোঝাতে সক্ষম হন।

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় যুবকেরা গ্রামের দুটি প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। সেখানে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে লেখা রয়েছে, 'করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই গ্রামে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।' গ্রামের প্রবেশপথে যুবকেরা পাহাড়া দিচ্ছেন। বাইরের লোকজন গ্রামে প্রবেশ করতে চাইলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

সরদারপাড়া যুবক সমিতির সদস্য সাজেদুর রহমান বলেন, 'সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে গ্রামবাসী নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মহল্লা থেকে বের হচ্ছেন। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রামের প্রবেশমুখে সাবান ও পানি রাখা হয়েছে। যাঁরা জরুরি প্রয়োজনে গ্রাম থেকে বের হচ্ছেন এবং গ্রামে ঢুকছেন তাঁরা যাওয়া-আসার সময় সাবান-পানি ব্যবহার করছেন। বাইরের লোকজনকে গ্রামে ঢুকতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের লোকজন কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে না।'

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমান পরিস্থিতে এ ধরণের উদ্যোগ অবশ্যই ভালো এবং দৃষ্টান্তমূলক। সরদারপাড়া গ্রামবাসীর মতো অন্যরাও শিক্ষা নিয়ে চলাফেরা করলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনকে এতো বেগ পেতে হতো না।'