
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়াকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বারিককে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়াকে অব্যাহতি ও আবদুল বারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আজ বুধবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চিঠি দুটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. নুরুজ্জামানের বিরোধিতা করেছেন আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। ফলে চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসানের কাছে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন। এ বিষয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ৩০ ডিসেম্বর তিনি নোটিশের জবাব দেন। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও বারবার আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তিনি আসেননি। অন্য দিকে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর যুবলীগের এক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করায় তাঁকে নিজ বাড়িতে আটকে শারীরিক নির্যাতন করেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপির বিজয়ী চেয়ারম্যানের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে তিনি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব হোসেন বলেন, আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার এ ধরনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপে দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। দলীয় স্বার্থে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দলীয় বিভাজন আরও স্পষ্ট করতে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা একটি পক্ষের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। আমি এখন ঢাকায় আছি, এ নিয়ে আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিনিশপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছি, কথাটি সত্য নয়। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমি তো যেতেই পারি। এ নিয়ে জলঘোলা করার দরকার ছিল না।’