নান্দাইলে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচনে পক্ষে–বিপক্ষে থাকা নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

হামলাকারীরা দরিদ্র কৃষক বাহার উদ্দিনের টিনের ঘরে এভাবেই ভাঙ্চুর করে। আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে নান্দাইলের চকমতি গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

ইউপি নির্বাচনের পর থেকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরাজিত ও বিজয়ীদের সমর্থকেরা একে অপরের বাড়িতে ওই হামলা চালান।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা শেরপুর ইউনিয়নের মেরাকোনা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, দুজন সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় মো. আবদুল কাদিরের গোয়ালঘর এবং তার পাশে থাকা মালামাল রাখার ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

কাদিরের মেয়ে মোছা. লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্যরা মোরগ মার্কার মেম্বার প্রার্থী আবুল কালামের নির্বাচন করেছে। আমাদের প্রতিবেশী মোবারক হোসেন ও তাঁর পরিবার ফুটবল মার্কার মেম্বার প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নির্বাচন করেছেন। নির্বাচনে জসীম বিজয়ী হন।’

লুৎফুন্নাহারের অভিযোগ, ‘আমাদের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকেরা আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না। তখন প্রতিবেশী মোবারকের নেতৃত্বে ফুটবল মার্কার সমর্থকেরা আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে চলে যায়।’

লুৎফুন্নাহার আরও বলেন, ‘গোয়ালঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি রশি কেটে দিয়ে গোয়ালঘরের ভেতর থেকে গাভি ও বাছুর বের করে আনেন। না হলে বাছুরসহ গাভিটি পুড়ে যেত। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে বাড়িতে গিয়ে মোবারক হোসেনকে পাওয়া যায়নি। মোবারকের ভাবি মোছা. নুরুন্নহার বলেন, ‘ওই দিন আমাদের বাড়িতে পুরুষ মানুষ ছিল না। টিনের চালে সামনে ঢিল পড়তে লাগলে আমাদের বাড়ির নারীরা ভয়ে ঘরে ঢুকে দরজায় খিল এঁটে দেন। বাইরে তখন কী হচ্ছিল তা বলতে পারব না।’

নুরুন্নহার আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো লোক গোয়ালঘরে আগুন দেয়নি। নিজেরা আগুন লাগিয়ে আমাদের ফাঁসাতে চাইছে।’

এদিকে মুশুলি ইউনিয়নের চকমতি গ্রামের গিয়ে জানা যায়, নৌকার সমর্থকদের হামলায় এই গ্রামের আনারস সমর্থকদের কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ঘটনায় চকমতি গ্রামের কৃষক মো. বাহার উদ্দিনের বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাঁর স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, হামলাকারীরা তাঁর স্বামী ও ছেলের খোঁজ করে। প্রাণভয়ে তাঁর ছেলে ঢাকায় চলে গেছে। স্বামী অন্য গ্রামে চলে গেছেন। সম্ভ্রমহানির ভয়ে অবিবাহিত মেয়েকে আত্মীয়বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি বাড়িতে একা থাকছেন।

এ ছাড়া রাজগাতী ইউনিয়নের রাজগাতী ও দাসপাড়া গ্রামে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মোয়াজ্জেমুপর ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামেও হামলার ঘটনা ঘটে। ১১ নম্বর খারুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী মিলন মিয়ার বাড়িতে হামলা করেছেন পরাজিত প্রার্থী মো. কদ্দুছ মুন্সি ও তাঁর সমর্থকেরা। এ ব্যাপারেও কদ্দুছ মুন্সির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, নির্বাচনের পর এ ধরনের চার-পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ামাত্রই বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে। মেরাকানা গ্রামে গোয়ালঘরে আগুন লাগার ঘটনাটিও নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার একটি ঘটনা। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।