
টানা খরায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানও যেন প্রাণ হারিয়েছিল। গাছের পাতাগুলো হারিয়েছিল তাদের চিরচেনা সবুজ রং। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে লাউয়াছড়া আপন রূপ ফিরে পেয়েছে। নিস্তব্ধ বনের প্রাণ বন্যপ্রাণীরাও আপন মনে খেলা করছে। ঘুরে বেড়াচ্ছে বনে ও গাছগাছালিতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
১৯৯৬ সালে সিলেট বন বিভাগের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এ বনে বিরল প্রজাতির উল্লুক, চশমা পরা বানর, লজ্জাবতী বানর, বন রুই, মেছো বাঘ, মায়া হরিণ, বিভিন্ন জাতের সাপ ও নানা জাতের পাখির অভয়াশ্রম। বিরল প্রজাতির গাছসহ বিভিন্ন জাতের গাছ-গাছালির সারি সারি অবস্থান এ বনে। এ বনের ভেতর নানা জাতের গুল্ম, লতা বাঁশ, বন্য শূকর হলুদ কচ্ছপ পর্যটকদের টানে।
কিছুদিন আগেও হাজারো পর্যটকের আগমনে মুখর থাকত এলাকা। তাদের হই হুল্লোড় বনের শান্ত নিবিড় পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছিল লাউয়াছড়া। মানুষজনের পদভারে এ বনের বন্যপ্রাণীর দেখাও অনেকটা মেলত না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এখন তার আগের পরিবেশ ফিরে গেছে।
বৃহস্পতিবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, মনের আনন্দে বন্যপ্রাণীগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। বানরগুলো এক গাছ থেকে আরও এক গাছে লাফিয়ে বেড়ায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শোনা যায় মহাবিপন্ন উল্লুকের আওয়াজ। সতেজ সবুজ পাতার ভেতরে চশমাপরা বানরকে খেলা করতে দেখা যায়। বনের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বন মোরগ। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দ। বনের মধ্যে মায়া হরিণকেও ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল।
লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ছাত্র নেতা সাজু মারছিয়াং বলেন, ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম এ উদ্যান তার নিজস্ব চেহারা ফিরে পেয়েছে। নেই মানুষজনের চেঁচামেচি-চিৎকার। আর দুই দিনের বৃষ্টিতে বন তার হারিয়ে যাওয়া সতেজতা ফিরে পেয়েছে। এতে বন্যপ্রাণীগুলোও নিঃশঙ্কচিত্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দুই দিনের বৃষ্টিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সতেজ হয়ে উঠেছে। বনের প্রাণীগুলো এখন মহাআনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।