
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশার বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থীর দুই সমর্থককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই অভিযোগে তাঁকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টি আই এম নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চিকাশি মফিজ মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই সমর্থক সোনারগাঁও গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৫) ও ইমা করিমকে (৪৫) পিটিয়ে আহত করেন আলেফ বাদশা ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাই আবদুল কাদির বাদী হয়ে গতকাল রাতে আলেফ বাদশাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী ছিলেন নাজমুল কাদির। অন্যদিকে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন চিকাশি ইউনিয়নের সভাপতি আলেফ বাদশার মেয়ের জামাই আরিফুর রহমান। তাঁরা দুজনেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এতে নৌকার সমর্থকদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন আলেফ বাদশা।
ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই খোকন জানান, চিকাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর পছন্দের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় আক্রোশে নৌকার দুই সমর্থককে তিনি পিটিয়ে আহত করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলেফ বাদশার বিরুদ্ধে মামলা ও দলীয় পদ থেকে তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর দুই সমর্থকের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে চিকাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশা বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী এবং আবদুল্লাহ আল মামুন ও ইমা করিমের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করছি। বিদ্রোহী প্রার্থী আমার জামাই হয়। সে কারণে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়েছেন এবং আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।’
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, নৌকার দুই সমর্থককে মারধরের ঘটনায় আলেফ বাদশাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।