মাগুরায় সংঘর্ষে চারজন নিহত

পুরুষশূন্য গ্রাম, অনেক বাড়ি তালাবদ্ধ

সংঘর্ষে চারজন নিহতের পর ফের হামলা আতঙ্কে অনেককে বাড়ি থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়। গত শনিবার মাগুরা সদরের জগদল গ্রামে
প্রথম আলো

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল গ্রামের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবদমান পক্ষগুলোর বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় একটি পক্ষ গতকাল সোমবার হত্যা মামলা করলেও অন্য পক্ষটি এখনো মামলা করেনি। পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবদমান পক্ষগুলোর বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার ও প্রতিপক্ষের হামলা এড়াতে পুরুষ সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেক বাড়ি তালাবদ্ধ। নারী সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জগদল সরদারপাড়া জামে মসজিদের ইমাম বাকি বিল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে মসজিদের কয়েক শ গজ দূরত্বে। আশপাশের বেশির ভাগ বাড়িতেই মানুষ নেই। ঘটনার পর থেকে দু-একজন পুলিশ সদস্য ছাড়া নামাজে কাউকেই পাওয়া যায় না। সকালে মক্তবে প্রায় অর্ধশত শিশু আসত কোরআন শিখতে। তারাও আসছে না।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থেকে অর্ধশতাধিক বাড়িতে গেছি। কোনো বাড়িতেই পুরুষ সদস্যের দেখা মেলেনি। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ তিনি বলেন, জগদল এলাকার পাঁচটি জায়গায় পুলিশ অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করেছে। হামলা ও লুটপাটের আতঙ্কে প্রথম দিকে কিছু মানুষ মালামাল সরিয়ে নিলেও পরবর্তী সময়ে কাউকে কিছু নিতে দেয়নি পুলিশ।

জগদল গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বর্তমান সদস্য নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আজ দুপুরে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তাঁর পরিবার বা আশপাশের কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য প্রার্থী সৈয়দ হাসানের বাড়িতে কেবল নারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দ হাসানের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হালিমা আক্তার বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাড়িছাড়া। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু দিনের বেলায় বাড়িতে থাকি। সন্ধ্যা হলেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে যাই। রাতে এখানে থাকার মতো সাহস পাই না।’

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সদর থানার এসআই মো. রাজু হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থেকে অর্ধশতাধিক বাড়িতে গেছি। কোনো বাড়িতেই পুরুষ সদস্যের দেখা মেলেনি।

গত শুক্রবারের ওই সংঘর্ষে কবির মোল্লা (৫২), সবুর মোল্লা (৫০) নামের দুই ভাই ও তাঁদের চাচাতো ভাই রহমান মোল্লা (৫৬) এবং অন্য পক্ষের ইমরান মোল্লা (২৫) নামের একজন নিহত হন। ঘটনার প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে কবির ও সবুরের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। সেখানে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, তাঁর পাঁচ ভাইসহ ৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও নিহত ইমরান মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। তবে আজ দুপুরে ইমরান মোল্লার বোন তাসকিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, মামলা করতে তাঁর মা থানায় গেছেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুরুল আলম আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, মামলা দিতে আসবে। এখন পর্যন্ত মামলা করতে কেউ আসেনি। তিনি বলেন, এক পক্ষের মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।