গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী

প্রতিপক্ষের প্রাচীর নির্মাণ,পাঁচটি পরিবার অবরুদ্ধ

অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা পড়েছেন চরম বিপাকে। নৌকায় করে আধা কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাঁদের হাটবাজারে যেতে হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলার মানচিত্র
গোপালগঞ্জ জেলার মানচিত্র

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রতিপক্ষ প্রাচীর তুলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পাঁচটি পরিবার এক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা পড়েছেন চরম বিপাকে। নৌকায় করে আধা কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাঁদের হাটবাজারে যেতে হচ্ছে।

উপজেলার নিজামকান্দি ইউনিয়নের ফসলি গ্রামে পাঁচটি পরিবার ওই ভোগান্তিতে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে লালটু সরদার (৪৮) চলাচলের পথ খুলে দিতে ও অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

গত সোমবার দুপুরে ফলসি গ্রামে গিয়ে ওই পাঁচ পরিবারের অবরুদ্ধ অবস্থা চোখে পড়ে। তালতালা-ফলসি সড়কের দক্ষিণ পাশে লালটু সরদারের বাড়ি। তিনি জানান, ১৯৯০ সালে সরদার ও শেখ বংশ ওই বাড়ি কিনে এখানে বসবাস করে আসছে। এর মধ্যে সরদার বংশের পাঁচটি পরিবার রয়েছে। উত্তর পাশে আসলাম শেখ ইটের প্রাচীর তুলেছেন। এর পাশে লাড্ডু শেখ টিন দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উত্তর ও পূর্ব পাশে হাঁটার পথ বন্ধ হয়েছে গেছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে পানি থাকায় যাতায়াত করা যাচ্ছে না। অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন পাঁচ পরিবারের অন্তত ৩৫ জন। করোনার কারণে দেড় বছর পর বিদ্যালয় খুলেছে। তবে এই পরিবারের ছয়জন বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

লালটু সরদার অভিযোগ করেন, ‘আমরা এখানে বাড়ি করার পর বিনা বাধায় ৩২ বছর রাস্তা ব্যবহার করেছি। গ্রামের আসলাম শেখ, লাড্ডু শেখ ও হাসান শেখ স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের চলাচলের রাস্তা ইটের প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।’

ফুলজান বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ বলেন, সাত দিন ধরে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। তাঁর নাতি অন্তঃসত্ত্বা। যেকোনো সময় তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া লাগতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

এ বিষয়ে আসলাম শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে লাড্ডু শেখ মুঠোফোনে বলেন, ‘৩২ বছর তাঁদের চলাফেরায় বাধা দিইনি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের সঙ্গে লালটু সরদারদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। তাই আমরা পথ বন্ধ করে দিয়েছি।’

নিজামকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জুয়েল খান বলেন, পাঁচটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা অমানবিক ব্যাপার। বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একসঙ্গে বসেছিলেন। কিন্তু সমাধান হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি জানিয়েছেন।

ইউএনও রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে মীমাংসা করার জন্য বলেছি। তিনি ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’