
ফরিদপুর শহরের চানমারী এলাকায় অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দালাল চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শহরের কমলাপুর তেঁতুলতলা মহল্লার মো. নাদিম হাসান (৩৫), শহরের পূর্ব আলীপুর রওশন খান সড়ক এলাকার মো. তারিকুর রহমান ওরফে নাইম (৪৫), দক্ষিণ কমলাপুর মহল্লার রাব্বি মোল্লা (২৮), চানমারী ঈদগাহ এলাকার আল আমিন শেখ (২৭) ও ডিআইবি বটতলা এলাকার মোজাম্মেল হোসেন ওরফে শিমুল (২৫)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি পুলিশ জানতে পারে ফরিদপুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাসপোর্টের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ দালালকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তার মো. নাদিম হাসানের দোকানে তল্লাশি করে পাসপোর্টের লেনদেন–সংক্রান্ত পাঁচটি হিসাবের খাতা, ডায়েরি, পাসপোর্টের টাকা জমা দেওয়ার চালান, দুটি করে কম্পিউটারের মনিটর ও হার্ডডিস্ক এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি জানিয়েছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্টের দালালির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা পাসপোর্ট করার কথা বলে কৌশলে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হতো। সরকার–নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা তাঁরা চাঁদা হিসেবে বিভিন্ন অফিসের লোকজনসহ নিজেদের মধ্যে ভাগ–বাঁটোয়ারা করতেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ফরিদপুরের সদরপুরের মো. জুলহাস মিয়া বাদী হয়ে ওই পাঁচ ব্যক্তিকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।
মো. জুলহাস মিয়া বলেন, তিনি পাসপোর্ট করার জন্য ওই চক্রকে মোট ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপরও ওই চক্রের লোকজন তাঁকে কৌশলে আটক করে আরও দুই হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ওই পাঁচ ব্যক্তি গতকাল বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অরুপ বসাকের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।