
ফেনীর সদর উপজেলার মহিপালে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারে এখন থেকে শুধু করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনীর সিভিল সার্জন মো. সাজ্জাদ হোসেন।
গতকাল ট্রমা সেন্টারে জেলার প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত যুবককে ভর্তি করে হাসপাতালটিতে প্রথম কোনো রোগী ভর্তি করা হলো। ১৪ বছর আগে ২০০৬ সালে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও কখনো রোগী ভর্তি করা হয়নি। শুধু বর্হিবিভাগে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো।
ফেনীর প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত যুবকের বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলায়। গতকাল রাত ১০ টার দিকে তাঁকে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি থেকে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রমা সেন্টারের তৃতীয় তলায় তাঁকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ফেনীর সিভিল সার্জন মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ট্রমা সেন্টারটিতে এখন থেকে শুধু করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা চলবে। কোন রোগীর অবস্থা বেশী খারাপ হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে। কারন এ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই।
তিনি আরও বলেন, রোগীর অবস্থা দেখে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর চিকিৎসার জন্য ছয় জন চিকিৎসক, নার্স-ওয়ার্ড বয় সহ ১০ জন দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সব কিছু প্রতিদিন ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস আক্রান্ত ওই যুবক ঢাকা থেকে ছাগলনাইয়ায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। তাঁর জ্বর-শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৪ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফলে তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই যুবকের বয়স ২৮ বছর। তিনি ঢাকায় একটি মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
সিভিল সার্জন জানান, গ্রামে ওই যুবকের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন তা জানতে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মুঠোফোনে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে নাম সংগ্রহ করবেন। পরে ওই সব ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া তাহের জানান, ওই যুবকের গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান জানান, রোগীর অবস্থা বুঝে স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি দেখানো যাবে না।