বন্ধ ঘর থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার, পাশে বসে থাকা মাদকাসক্ত ছেলে আটক

বন্ধ ঘর থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি। আজ শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রাম থেকে আমেনা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন পেয়ে পুলিশ বন্ধ বসতঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘরে থাকা বৃদ্ধার ছেলে ফিরোজ মিয়াকে (৩০) আটক করে পুলিশ।

আমেনা পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমেনা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তাঁর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বড় ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। বাড়িতে ছোট ছেলে ফিরোজকে নিয়ে থাকতেন আমেনা। তবে ফিরোজ মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রায় ছয় বছর আগে বড় ভাই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান। সেখানেও তিনি মাদক সেবন করতেন। এরপর সেখান থেকে প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িতে ফেরেন ফিরোজ। মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ফিরোজ মাকে মারধর করতেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মা ও ছেলে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত একটার দিকে ঘর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশে খবর দেন। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। এরপর দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে আমেনা বেগমকে মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘরের ভেতরেই বসেছিলেন ছেলে ফিরোজ। এ সময় ঘরে প্লাস্টিকে চেয়ারে আগুন জ্বলছিল। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময় ছেলে ফিরোজকে আটক করা হয়।

ফিরোজের চাচাতো ভাই শহীদুর রহমান বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরোজ বাড়িতে ফিরে আসেন। আসার পর থেকেই মাদক সেবন করায় আমেনা বাধা দেন। এতে তিনি মায়ের ওপর চড়াও হয়ে কয়েকবার মারধরও করেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানেও ফিরোজের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে দুই দিন আগে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ সরকার বলেন, ওই বৃদ্ধার হৃদ্‌রোগ ছিল বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। তবে নিহত বৃদ্ধার মুখে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর ছেলেকে থানায় আনা হয়েছে।