
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে মো. আসলাম হোসেন যোগ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে তিনি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ঘটনায় সরাইল থানার ওসি এ এম এম নাজমুল আহমেদকে বদলি করা হয়।
গত রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে ওসি এ এম এম নাজমুল আহমেদকে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মইনুর রহমান চৌধুরী এতে সই করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় ১৫ দিনে তিন ওসিসহ চার কর্মকর্তার বদলির ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মো. আসলাম হোসেনকে গত ৯ মে ঢাকা রেঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। গতকাল রাতে তিনি সরাইল থানায় যোগদান করেন। আর সরাইল থানার সাবেক ওসি এ এম এম নাজমুল আহমেদকে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ হেফাজতের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে লাঠিসোঁটা নিয়ে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাঁরা সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালান হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা। এতে সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেনসহ অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় গত ২৮ মার্চ থেকে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে গত ৩১ মার্চ রাতে অরুয়াইল ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ছেলে মো. ইসমাইলসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জনকে।
এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজন এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৩ জনই অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী। অন্যদের মধ্যে একজন উপজেলা খেলাফত মজলিশের আমির আবু তাহের, একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও অন্যজন আওয়ামী লীগের সমর্থক।