ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ

মোটরসাইকেল ও অটোরকিশার মতো হালকা যানবাহনগুলো ওই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

মহাসড়কের পাশে দখল করে অবৈধভাবে বালু রেখে ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকালে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই বাজার এলাকায়
ছবি: আনোয়ার হোসেন

মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ। বালু ছড়িয়ে পড়েছে কয়েক ফুট। এতে মোটরসাইকেল ও অটোরকিশার মতো হালকা যানবাহনগুলো ওই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ চিত্র ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়কের ময়মনসিংহের শিকারিকান্দা এলাকা থেকে ত্রিশাল উপজেলার রঘুরামপুর পর্যন্ত অংশের।

ত্রিশাল অংশে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন। অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানান ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) মো. আক্তারুজ্জামান। তবে ময়মনসিংহ অংশের মহাসড়কে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজিমনে দেখা যায়, শিকারিকান্দা বাইপাস থেকে ত্রিশালের বৈলর পর্যন্ত অংশে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বালুর স্তূপ। এসব স্তূপের বালু মহাসড়কে ছড়িয়ে আছে। শিকারিকান্দা মোড়, চুরখাই, কাজীর শিমলা ও কানহর এলাকায় মহাসড়কের পাশে অপেক্ষাকৃত বড় বড় বালুর স্তূপ। বিভিন্ন স্থানে বালুর স্তূপ ঘিরে ট্রাকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

চুরখাই বাজার এলাকার আবুল হাসান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, বালুর স্তূপের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে বালু ছড়িয়ে থাকে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চলাচল। দুই চাকার যান হওয়ার কারণে যেকোনো সময় মোটরসাইকেল সড়কে উল্টে যেতে পারে।

কাজীর শিমলা এলাকায় কথা হয় স্থানীয় কয়েক বাসিন্দার সঙ্গে। তাঁরা জানান, কয়েক বছর ধরেই এভাবে মহাসড়কের পাশে বালু রেখে ব্যবসা শুরু হয়েছে। তবে গত ছয় মাসে এ ব্যবসা আরও বেড়েছে। এতে মহাসড়কে প্রায়ই ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কাজীর শিমলা এলাকায় বালুর ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে সাত মাসের শিশু সিন্নাতুল নুর মারা যায়। দুর্ঘটনায় এক পা হারান সিন্নাতুলের মা শারমিনা আক্তার। মহাসড়কের বালু–বাণিজ্যের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি বলেন, এসব বালু নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা সোমেশ্বরী নদী থেকে আসে। সোমেশ্বরী নদীতে প্রতিদিন হাজারো ট্রাক বালু বিক্রি হয়। ওই বালু ট্রাকের চালকেরা মালিকের চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে নিয়ে আসেন। পরে গন্তব্যে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত বালু ওই মহাড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে রেখে যান। এভাবে মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ তৈরি হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর ওই স্তূপের বালু আবার বিক্রি করা হয়। এভাবেই গড়ে উঠেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা। মূলত ট্রাকচালক ও মালিকেরা এ ব্যবসা করছেন।

অবৈধ বালু ব্যবসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনভোগান্তির বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার বিকেলে মহাসড়কের ত্রিশাল অংশের দরিরামপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন ত্রিশালের ইউএনও মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুজন বালু ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশ থেকে বালু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধভাবে মহাসড়কের পাশে বালু রাখার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল ও ভালুকা অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহ সদর অংশেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।