নরসিংদীর মাধবদী

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা

নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি মামলা করেন।

মামলা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান।

এর আগে গত রোববার বেলা তিনটার দিকে মাধবদীর চৌঘরিয়া এলাকা থেকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, অপহরণের পর থেকে পাঁচ দিন ধরে তাঁর মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

অপহরণের শিকার মেয়েটি পাশের এলাকার একটি বালিকা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার সময় ছাত্রীটি তার ফুফার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। সে সময় তার পথরোধ ও মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার আসামিরা হলেন আরিফ মিয়া (২৩), মো. আশিকুর (২১), খোকন মিয়া (২৫), রুবেল মিয়া (২৪), নসর উদ্দিন (৫০), মিসির আলী (৪৫), রওশন আরা (৪৫) ও জাকির হোসেন (৪০)। আসামিরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

অপহৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফ মিয়া নামের এক তরুণ ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে বাড়ির আশপাশে ও মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। এসবসহ বিভিন্ন সময় আরিফের দেওয়া নানা রকম কুপ্রস্তাবের কথা ছাত্রীটি তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিত। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফকে আর উত্ত্যক্ত না করতে একাধিকবার অনুরোধ করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের এসব ঘটনা জানানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করেছে।

মামলার এজাহার বলা হয়, রোববার বেলা তিনটার দিকে ওই ছাত্রী তার ফুফার সঙ্গে আড়াইহাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় চৌঘরিয়া এলাকার একটি সড়কের ওপর সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা নিয়ে ওৎ পেতে ছিলেন আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা। কিছুক্ষণ পরই এই পথ ধরেই যাওয়ার সময় তাঁরা ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ফুফাকে কিল-ঘুষিসহ ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে অপহরণ করেন তারা।

মামলার বাদী ও ওই মাদ্রাসাছাত্রীর মা জানান, ‘অপহরণের এ ঘটনার পর থেকেই পাঁচ দিন ধরে আমার মেয়ে নিখোঁজ। তাকে বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যাচ্ছে না। আমি জানি, আমার মেয়ে আসামিদের হেফাজতেই আছে। তাই বাধ্য হয়ে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর মা মামলা করার পর থেকেই অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ।