মানিকগঞ্জে পোশাককর্মীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের মামলার আসামি গ্রেপ্তার

অ্যাসিড সন্ত্রাস
অ্যাসিড সন্ত্রাস

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পোশাক কারখানার নারী কর্মীকে অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়ার মামলার আসামি নাঈম মল্লিককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা সদরের সাকরাইল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৪–এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩ মানিকগঞ্জ ক্যাম্প) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই আসামি নাঈম আত্মগোপন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ছদ্মবেশে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত আটটার দিকে জেলা সদরের সাকরাইল এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সকালে তাঁকে সাটুরিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার ওই পোশাককর্মীর শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁর দুই হাতের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মানিকগঞ্জ সদরের বেতিলা গ্রামের নাঈম মল্লিকের সঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলার ধানাকোড়া ফেরাজিপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। মাদকসেবী হওয়ায় নাঈম ঠিকমতো কাজ করতেন না। যৌতুকের জন্য সাথীকে মারধর করতেন। প্রায় চার মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাথী ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি নাঈম সাথীকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। গত শুক্রবার কারখানা বন্ধ থাকায় সাথী বাবার বাড়িতে ছিলেন। রাতে মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ঘুমান তিনি। রাত প্রায় একটার দিকে ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে নাঈম সাথীকে অ্যাসিড ছোড়েন। অ্যাসিডে সাথীর মুখ, গলা ও হাত ঝলসে যায়

এরপর রাতেই সাথীকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে শনিবার দুপুরে তাঁকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার সাথীর মামা লাল মিয়া নাঈম মল্লিককে আসামি করে সাটুরিয়া থানা মামলা করেন।

আজ বুধবার দুপুরে সাথীর চাচা মোখলেস মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাসিডে সাথীর দুই হাতের আঙুলগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। এ ছাড়া মুখমণ্ডল ও গলা পুড়ে গেছে। গতকাল দুপুরে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা সাথীর দু্ই হাতের অস্ত্রোপচার করেছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানান তাঁরা।