
১৫ মিনিট দেরিতে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ায় নাটোরের এক পরীক্ষার্থীকে ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নলডাঙ্গা উপজেলার শহীদ নজমুল হক সরকারি ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই কেন্দ্রসচিবের দাবি, ওই পরীক্ষার্থী ২০ মিনিট দেরিতে কেন্দ্রে আসায় তাঁকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী ওই পরীক্ষার্থীর নাম কামাল সরদার। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় যানজটের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে আমার মাত্র ১৫ মিনিট দেরি হয়েছে। মানবিক কারণে আমাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার অঙ্গীকারও করেছিলাম। কিন্তু তাতেও কর্তৃপক্ষ সাড়া দেননি। আমার হয়তো আর পড়ালেখাই হবে না।’
কামাল সরদার নলডাঙ্গা উপজেলার ধনকড়া গ্রামের শহিদুল সরদারের ছেলে। তিনি উপজেলার ছাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আর্থিক অনটনের কারণে কামাল পড়াশোনার পাশাপাশি নাটোর শহরে রাজমিস্ত্রির সহায়ক হিসেবে কাজ করেন। কামালের বাবা শহিদুল সরদার দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
শহিদুল সরদার বলেন, ‘আমার ছয় ছ্যালি-মিয়া (ছেলে-মেয়ে)। লোকের বাড়িত কাজ করি সংসার চালাই। কাউকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। শুধু চার নম্বর ছেলে কামালকে পড়াচ্ছি। কিন্তু গতকাল ১৫ মিনিট লেটে যাওয়ায় ওকে আইএ পরীক্ষা দিতে দেয়নি। কিন্তু এখন কী হবি ? আমার ছ্যালিডার লেখাপড়া শেষ হয়া গেলো!’
জানতে চাইলে শহীদ নজমুল হক সরকারি ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্রসচিব আছির উদ্দিন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী কামাল সরদার নামের ওই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। কারণ, তিনি ২০ মিনিট বিলম্বে কেন্দ্রে এসেছেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে এলে পরীক্ষা নেওয়া যেত।