রাউজানে অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তরুণেরা

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অবরুদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রামের রাউজানে নিজেদের মোটরসাইকেলে করে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতাল পৌঁছে দিচ্ছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। কারও রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতাকে মোটরসাইকেলে করে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। গ্রামের ওষুধের দোকানে কোনো ওষুধ পাওয়া না গেলে তাঁরা শহর থেকে সেগুলো এনে রোগীর বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। এই তরুণেরা অনলাইনভিত্তিক রক্তদাতা সংগঠন রাউজান ব্লাড ব্যাংক ও রাউজান ব্লাড ডোনার্সের সদস্য। তাঁরা বিভিন্ন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

সংগঠন দুটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা, গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচল সীমিত হয়। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন অসুস্থ রোগী ও রক্তদাতাকে রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি থেকে বিনা ভাড়ায় নিজেদের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া গ্রামে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অনেক ওষুধ তাঁরা শহর থেকে এনে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ জন্য কোনো পরিবহন খরচ নেন না তাঁরা।

দুই সংগঠনের ২০ জন সদস্য ২০টি মোটরসাইকেল দিয়ে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সেবার জন্য রাউজান ব্লাড ডোনার্সের সদস্যরা ০১৮২২২৩৮৮৪৪ ও ০১৮৩৬৬৪০২৫২ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আর রাউজান ব্লাড ব্যাংকের সদস্যরা ০১৮৩১৯৫৬৯৬৩ ও ০১৮৭৪৭৮৭০৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

রাউজান সীমান্তের ফটিকছড়ির এক প্রবীণ নারী আমেনা বেগম বলেন, তাঁর ওষুধ শেষ হয়ে যায়। এখানকার হাটবাজারে সেই ওষুধ পাচ্ছিলেন না। তাঁর মেয়ে ফেসবুক থেকে মুঠোফোন নম্বর নিয়ে গত সপ্তাহে স্বেচ্ছাসেবীদের কল করেন। তাঁরা বিনা পরিবহন ভাড়ায় শহর থেকে তাঁকে ওষুধ এনে দিয়েছেন।

রাউজান ব্লাড ডোনার্সের পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যত দিন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলবে, তত দিন বিনা ভাড়ার পরিবহনসেবা অব‍্যাহত থাকবে। যেকেউ যোগাযোগ করে এই সেবা নিতে পারবেন।

রাউজান ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক মুহাম্মদ সাইফ আলী চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা দিন–রাত এই সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করে যেকেউ এই সেবা নিতে পারবেন।’

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোনায়েদ কবির প্রথম আলোকে বলেন, দুর্যোগের দিনে তরুণদের এভাবে এগিয়ে আসা প্রশংসনীয়। তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী এই কাজ অনুকরণীয়।