
রাজশাহী মহানগরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত নয়টার দিকে নগরের লক্ষ্মীপুর মোড়ে অবস্থিত ‘ড্রীম হ্যাভেন’ নামের একটি হোটেল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ওই নারী ও একজন পুরুষ গতকাল সকালে হোটেলের একটি কক্ষে উঠেছিলেন। ওই নারীর সঙ্গে থাকা লোকটি দুপুরেই কক্ষ তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান। লাশের আঙুলের ছাপ থেকে ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। তাঁর বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়। তাঁর সঙ্গে আসা ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
হোটেলের খাতায় ওই নারীর নাম লেখা ছিল মোসা. জুলেখা। বয়স লেখা ছিল ২৩ বছর। তবে পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ৪২ বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর তাঁর স্বামী হিসেবে খাতায় ওই ব্যক্তির নাম লেখা আছে মো. মিজান। মিজানের বয়স লেখা আছে ২৭ বছর। মিজানের বাবার নাম লেখা আছে মো. সিরাজুল। দুজনেরই ঠিকানা হিসেবে শুধু লেখা ছিল গোদাগাড়ী। তবে এসব নাম-ঠিকানা ভুয়া বলে পুলিশ দাবি করেছে।
হোটেলটির ব্যবস্থাপক সামিউল হাসান বলেন, চিকিৎসা করতে শহরে আসার কথা জানিয়ে ওই নারী ও পুরুষ গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে হোটেলে উঠেছিলেন। এক হাজার টাকা ভাড়ায় তাঁরা একটি এসি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর বেলা দেড়টার দিকে ওই নারীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি বের হয়ে যান। ইফতারের পর হোটেলের কক্ষগুলো যাচাই করার সময় দেখা যায়, ৪০৩ নম্বর কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ, কিন্তু ভেতরে এসি চলছে। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হোটেলের খাতায় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাত নয়টার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাজপাড়া থানার পুলিশ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় ওই নারীর লাশ দেখতে পায়। দিবাগত রাত একটার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেন।
নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই নারীর মরদেহে কোনো আঘাত দেখা যায়নি। ঘরে স্যালাইন খাওয়ানোর আলামত পাওয়া গেছে। এমন হতে পারে, ওই নারী মারা যাওয়ার পর সঙ্গে আসা ব্যক্তিটি ভয়ে পালিয়েছেন। কিংবা বালিশচাপা দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। মৃত্যুর কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ওসি জানান, হোটেলের খাতায় ভুয়া নাম-ঠিকানা ছিল। মৃত নারীর আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রকৃত নাম-ঠিকানা বের করা হয়েছে। তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে গেলে বোঝা যাবে, তিনি কার সঙ্গে এসেছিলেন। পলাতক ব্যক্তিকে হোটেলের সিসি ক্যামেরায় মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তাঁকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।