রাজশাহী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেলের (আওয়ামী লীগ-সমর্থিত) ভরাডুবি হয়েছে। সমিতির ২১টি পদের সব কটিতে জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত) প্রার্থীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে গত বছরও সমিতির নির্বাচনে একটি সদস্য পদ ছাড়া সব কটিতে বিজয়ী হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত এই প্যানেল।
নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল মনোনীত প্রার্থী আবুল কাসেম। তিনি পেয়েছেন ৩১৫ ভোট। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের মো. ইব্রাহীম হোসেন পেয়েছেন ২৭১ ভোট। এদিকে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পারভেজ তৌফিক জাহেদী। জাহেদী টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৭১টি। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের একরামুল হক পেয়েছেন ২২৩ ভোট।
সভাপতি-সম্পাদক ছাড়া বিজয়ী অন্যরা হলেন সহসভাপতি এ কে এম মিজানুর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম ও আবু মোহাম্মদ সেলিম; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ তহবিল) নূর-এ-কামরুজ্জামান, হিসাব সম্পাদক সেলিম রেজা, অডিট সম্পাদক আজিমুশ সান উজ্জ্বল, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক মোজাম্মেল হক (২) এবং ম্যাগাজিন ও কালচার সম্পাদক রজব আলী।
এ ছাড়া বিজয়ী ৯ সদস্য হলেন আফতাবুর রহমান, সাইদুর রহমান তালুকদার, আমজাদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, হাসানুল বান্না, অলিউল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, আবদুল বারী ও নূসরাত মেহেজেবীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। মাঝে বেলা একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি ছিল। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬০৫ জন ভোট দেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে মনোয়ারুল ইসলাম ও শামীম হায়দার দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। ভোট গণনা শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
সব কটিতে হারা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধরেননি। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী একরামুল হক বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের কাউকে ফোন দিতে বলেন।
এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে ফোন দিলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।