
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। জিপিএ–৫ পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জেলাটি। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ জন। পাস করেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৯ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এর মধ্যে বগুড়ায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ২৫৭। পাস করেছেন ২৬ হাজার ৭৬২ জন, পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। জেলাটিতে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৮ হাজার ২৯১ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ–৫ দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। একই অবস্থা বগুড়া জেলায়ও। জেলায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ৮১৩ জন, পাস করেছেন ১২ হাজার ৬৬৩ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৩। মেয়েরা এবার জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪১৩ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী। এই তালিকায় শীর্ষে রাজশাহী জেলা, এ সংখ্যা ৯ হাজার ১৬৯। ৮ হাজার ২৯১ জনের জিপিএ–৫ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বগুড়া।
ছেলেরা পিছিয়ে পড়ার নেপথ্যে ‘প্রযুক্তিতে আসক্তি’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ও বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ–৫–এর সূচকে ছেলেদের পিছিয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েরা বেশি জীবনে বড় কিছু হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখে, ফলে তারা পড়ালেখায় বেশি মনোযোগী। মা-বাবা ও অভিভাবকের অবাধ্য হয় না, আনুগত্য থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করে। প্রযুক্তিতে আসক্তি কম, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিমাত্রায় সময় অপচয় করে না। সময়ের মূল্য বুঝে যখনকার পড়া তখনই পড়ে, কাজ ফেলে রাখে না।
শাহজাহান আলীর মতে, ছেলেরা জীবন নিয়ে ‘সিরিয়াস’ নয়, তেমন কোনো স্বপ্ন নেই। মা-বাবাকে ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সময় নষ্ট করে, প্রযুক্তিতে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ে, ফেসবুকে বেশি সময় অপচয় করে। পড়ালেখায় ফাঁকি দেয়।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া সাবরিন সামান্তা বলেন, মেয়েরা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি মনোযোগী থাকে। ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজিতে সময় নষ্ট করে না, প্রযুক্তিতে অতিমাত্রায় আসক্ত হয় না। এ কারণে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো।
সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোহতামিমা হাসান। ব্যাংক কর্মকর্তা বাবা ফারুকুল হাসান মেয়ের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। ফারুকুল বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে দুই সন্তানই মেধাবী। তবে মেয়ে বেশি মেধাবী। কারণ, পড়াশোনার প্রতি মেয়ের ঝোঁক বেশি, সারাক্ষণ পড়া আর পড়া। মেয়ের সময়জ্ঞান খুব বেশি। অযথা সময় নষ্ট করে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিজের স্বপ্ন পূরণে খুব মনোযোগী।’
জিপিএ–৫-এ দেশসেরা সরকারি আজিজুল হক কলেজ
জিপিএ-৫-এর সংখ্যাগত দিক থেকে এবার দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসন দখল করেছে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এবার এই কলেজ থেকে ১ হাজার ৬৬৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পাস করেছেন ১ হাজার ৬৬০ জন, এর মধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫১ জন। জিপিএ–৫ অর্জনের হার ৯৩ দশমিক ৪৩; পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮২। অসুস্থতার কারণে তিনজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় এই কলেজ জায়গা করে নিতে পারেনি বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী।
জেলায় সেরা কলেজ
জিপিএ–৫ পাওয়ার দিক দিয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজ জেলা পর্যায়েও সেরা হয়েছে। বগুড়ার নাম করা দু–একটি কলেজ শতভাগ পাসের তালিকায় অল্পের জন্য স্থান করে নিতে পারেনি।
তবে অন্যবারের মতোই ভালো করেছে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সেরা কলেজগুলো।