নীলফামারী

লাভ বেশি হওয়ায় কমেনি তামাক চাষে আগ্রহ

কৃষকেরা বলেন, তামাক চাষে উৎপাদন খরচ কম হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও তাঁরা এর চাষ বন্ধ করছেন না।

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় নীলফামারী জেলার কৃষকেরা তামাকের চাষ ছাড়ছেন না। কৃষকেরা বলছেন, বোরো ধান চাষে খরচ বেশি। আবার লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা কৃষকদের তামাক চাষের কুফলগুলো বোঝাচ্ছেন এবং তামাকের বদলে ভুট্টা চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে জেলায় তামাক চাষ কিছুটা কমেছে।

জেলা সদর ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তামাকখেত। কেউ তামাকগাছের পরিচর্যা করছেন, কেউ পাতা কাটছেন। আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুকানো তামাকপাতা ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকেরা বলেন, তামাক চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ কম লাগায় উৎপাদন খরচ কম হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও তাঁরা এর চাষ বন্ধ করতে পারছেন না।

গত মঙ্গলবার বিকেলে জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের আরাজি দেশিবাই গ্রামের মো. আমিনুর রহমান বলেন, তিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তামাক চাষ করেন। এবার ২৫ শতাংশ জমিতে করেছেন। পরিবারের সবাই মিলে তামাকখেতে কাজ করা যায়, সার কম লাগে, নামমাত্র সেচ লাগে। তামাকের বিষ পাতা, গোড় পাতা, মুড়া—সব বিক্রি হয়। ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। ওই জমিতে বোরো চাষে খরচ হতো ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ধান হবে সর্বোচ্চ ১৫ মণ। সেখানে লাভ নেই। আবার তামাক তুলে ওই জমিতে পাট চাষ করা যাবে। বোরো ধান তোলার পর ওই জমি পতিত পড়ে থাকবে।

গ্রামের সনদ চন্দ্র রায় (৪০) বলেন, ‘আমাদের বাপ–দাদারা তামাকের চাষ করতেন। আমরা ছোটবেলা থেকে পরিবারের সবাই মিলে তামাকখেতে কাজ করতাম। ধানের চেয়ে তামাক চাষে খরচ কম। এবার এক বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছি।’

এলাকার তামাকচাষিরা বলেন, এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলন হয় ২০ থেকে ২৫ মণ ধান। ২৫ মণ ধানের দাম ২০ হাজার টাকার মতো। অপর দিকে প্রতি বিঘা জমিতে তামাক চাষে খরচ হয় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ৯ মণ তামাকপাতা পাওয়া যায়। প্রতি মণ বিক্রি হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। সে হিসাবে তামাক চাষে লাভ বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তামাক বিক্রির নিশ্চয়তা এবং ভালো দাম পাওয়ার কারণে তামাক চাষ কমানো যাচ্ছে না। তাঁরা তো আইন প্রয়োগ করে তামাক চাষ বন্ধ করতে পারবেন না। তবে তাঁরা কৃষকদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছেন। অনেক সময় তামাক ব্যবসায়ীরা চাষিদের তামাক চাষে প্রণোদনা দিয়ে থাকেন। চাষিরা এটিকে অর্থকরী ফসল হিসেবে দেখছেন। তাঁরা কৃষকদের তামাকের বদলে ভুট্টা চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও তামাক চাষ কমেছে।

সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সবুজ ও শুকনো সব তামাকই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। যাঁরা তামাক চাষ করেন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁরা ধূমপায়ীদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হন। তামাক ভাঙার সময় তামাকের গুঁড়া বাতাসের সঙ্গে মানুষের শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। নানা রকম ক্যানসার হতে পারে।