
দুজন সাংসদসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই গত বুধবার রাতে সিলেট জেলা কৃষক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। তাৎক্ষণিক গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটিও। তবে ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই সেই আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আগের কমিটি পুনর্বহাল করেছে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীর চন্দের সম্মতিতে বুধবার ঘোষিত কৃষক লীগ সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সভাপতি শাহ নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামের আগের কমিটি পুনর্বহাল করা হলো।
সিলেট জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কিছু যৌক্তিক ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করে তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলাম। এর কিছু পরই আমাদের জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে সেই কমিটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁর হস্তক্ষেপে কৃষক লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল।’
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় সিলেট জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় শামসুল ইসলামের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-সুনামগঞ্জের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ শামীমা আক্তার খানম, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে জেলা কৃষক লীগের অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা তিনজন কৃষক লীগের সিলেট জেলা কমিটিকে নিজেদের কবজায় নিতে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
লিখিত বক্তৃতায় শামসুল ইসলাম বলেন, তাঁরা (শামীমা আক্তার খানম, হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং হাবিবুর রহমান হাবিব) সিলেট জেলা কৃষক লীগে বিভাজন ও সাংগঠনিক সংকট সৃষ্টির জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছেন। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অগঠনতান্ত্রিক ও মনগড়া কার্যক্রম শুরু করেছেন তাঁরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা কমিটি। তবে জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সম্মেলনের ব্যানার ও পোস্টার তৈরি করা হয়েছে।
শামসুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনের পোস্টারে উদ্বোধক হিসেবে জেলা কমিটির সভাপতি শাহ নিজাম উদ্দিন, প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সাংসদ হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম দেওয়া হলেও জেলা কমিটির আর কারও নাম দেওয়া হয়নি। উদ্বোধক হিসেবে জেলা কমিটির সভাপতির নাম থাকলেও তিনি (সভাপতি) কিছুই জানেন না। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃস্থানীয়দের জানানো হয়েছে। এ বিভাজন সৃষ্টির পেছনে সাংসদ হাবিবুর রহমান, শামীমা আক্তার খানম ও হাবিবুর রহমান মোল্লার যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পরপর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে শামীমা আক্তার খানম, হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা শামসুল ইসলামের আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। এ সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট জেলা কৃষক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার বিষয়টি জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। ৫১ সদস্যবিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি শাহ নিজাম উদ্দিনকে। তবে শামসুল ইসলামকে এ আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আগের কমিটি পুনর্বহালের বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।