
১৭ বছরের কিশোরী যূথী (ছদ্মনাম) চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে এসেছে বছর তিনেক আগে। যূথীর বাবা শ্রমিক ছিলেন। জটিল রোগে তিনি অনেক আগে মারা যান। খাওয়া-পরা আর বস্তির খুপরির ভাড়া মেটাতে গিয়ে যূথীর মা যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। একসময় মেয়েকেও এই পেশায় আসতে বাধ্য করেন।
তবে তিন বছর আগে পুলিশ যূথীকে উদ্ধার করে বরিশালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসে। যূথী ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভুলে যেতে চায়। সে বলে, ‘ওই সময়গুলোর কথা আর মনে করতে চাই না। এখন জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন আছে। সমাজের অন্য সাধারণ মেয়েদের মতো করেই আমি বাঁচতে পারব।’
যূথীর মতো সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৪ কিশোরী এখন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। যূথী জানাল, সে এখন ব্লক-বাটিকের কাজ করে। কেন্দ্রে হাতের কাজ শেখার পাশাপাশি নাচ–গানের প্রতিভা বিকাশের সুযোগও পাচ্ছে।
এ পুনর্বাসনকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কিশোরীদের এখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সেলাই, ব্লক-বাটিকসহ বিভিন্ন হাতের কাজ শেখানো হয়। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরপরই এই কিশোরীরা স্বাবলম্বী হতে পারে।
আজ শুক্রবার দুপুরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ও তাঁর স্ত্রী নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লায়লা জেসমিন ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এ সময় যূথী ও সেখানকার অন্য কিশোরীরা গান গেয়ে দুই অতিথিকে স্বাগত জানান।
আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, তিনি কিশোরীদের দক্ষতা আর প্রতিভা দেখে মুগ্ধ। তিনি কিশোরীদের হাতে তৈরি চারটি ব্লক-বাটিকের চাদর কিনেছেন।
পুনর্বাসনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারেভজ বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশে এ রকম ছয়টি পুনর্বাসনকেন্দ্র রয়েছে। এই কিশোরীরা সামান্য আশ্রয়, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ পেলে সমাজের মূল স্রোতে টিকে থাকতে পারে এটাই তার উজ্জ্বল উদাহরণ।