
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সরকার চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। চা–শ্রমিকদের পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। চা–শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চা–বাগান এলাকায় স্কুল নির্মাণ করছে। রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এই সবকিছু চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য।
রোববার দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের, চা–শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ঘর পাওয়া মিলন নায়েক, অনুদান পাওয়া রাজেন্দ্র ভৌমিক, সবিতা নায়েক প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা–শ্রমিকদের অনেক ভালোবাসেন। চা–শ্রমিকেরাও মনেপ্রাণে তাঁকে ভালোবাসেন। সরকার এই দেশকে ইউরোপ, আমেরিকার মতো উন্নত দেশ করতে চায়। উন্নত দেশ করতে হলে যারা গরিব, অসহায়, যারা পেছনে পড়ে আছে, তাদের টেনে তুলে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারলে দেশ ইউরোপ, আমেরিকার মতো হয়ে যাবে। সরকার সে কারণে গরিব মানুষকে সাহায্য করছে।
অনুষ্ঠানে চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৮৭৯ জন শ্রমিকের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। সমাজসেবা অধিদপ্তর এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করছে। এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ১৭টি ঘরের চাবি উপকারভোগী চা–শ্রমিক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে চার লাখ টাকা করে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেওয়া ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুটি কাঁঠাল, দুটি আম ও একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন মন্ত্রী। পরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ৫০০ ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী। নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নের (রাজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প) আওতায় চারতলা ভিতের ভবনের প্রথম তলা নির্মাণে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজটি বাস্তবায়ন করবে।