জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাচন

সাত হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে মেয়রকে অভ্যর্থনা, যানজট

মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোটরসাইকেল বহরের সামনে মাইক্রোবাসে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে বতর্মান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মোস্তাক ফের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁকে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের বিশাল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের হিলিতে গিয়ে তাঁকে এই অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখান থেকে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিশাল বহর নিয়ে জয়পুরহাট শহরে আসেন।

বিকেলে সাড়ে পাঁচটায় শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে জনসমাবেশে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান যোগদান করেন। তিনি ফের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জয়পুরহাট পৌর উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো কারণে দুপুর থেকে জয়পুরহাট-হিলি সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই পথে চলাচলকারী যানবাহন ও লোকজন ভোগান্তির শিকার হন।

পাঁচবিবি আটাপাড়া রেলগেট এলাকার দোকান কর্মচারী সাইফুল ইসলাম যানজটে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হামি ইক্কা যানজট আগে কখনো দেখিনি। দুই ঘণ্টা ধরে সড়কে মোটরসাইকেল আটকে আছে।’

আওয়ামী লীগের দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান ফের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় জয়পুরহাট পৌর উন্নয়ন পরিষদ ১০ হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জেলার ৩২টি ইউনিয়ন থেকে ৩০০টি করে মোটরসাইকেল নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের অভ্যর্থনা জানাতে আসতে বলা হয়।

গতকাল সকাল ১০টার পর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতা–কর্মীরা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে শহরে আসতে থাকে। দুপুর ১২টার পর থেকেই মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের বহন নিয়ে হিলিতে রওনা হয়। মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর সঙ্গী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহসান কবির বিমানযোগে গতকাল দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। সেখান থেকে তাঁরা পাজেরো গাড়িতে সড়কপথে জয়পুরহাট আসেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দলীয় নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের বিশাল বহর নিয়ে দিনাজপুরের হিলিতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বেলা সাড়ে তিনটায় মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান হিলিতে পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জয়পুরহাট শহরে ঢোকেন। এ সময় শহরের ব্যস্ততম এলাকা পাঁচুর মোড়ে অন্য যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়। এরপর তিনি বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে জনসমাবেশে যোগ দেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিন আহাম্মেদ চৌধুরী জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেন।

তিলকপুর ইউনিয়ন থেকে আসা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ১০ হাজার মোটরসাইকেলে বহর নিয়ে মেয়র মোস্তাফিজুরকে অভ্যর্থনা জানাতে হিলিতে যাওয়া কথা ছিল। প্রচণ্ড শীতের কারণে মোটরসাইকেলবহরে মাইক্রোবাস যোগ হয়েছিল। ছয় থেকে সাত হাজার মোটরসাইকেল বহরে এসেছিল। স্থানীয় নির্বাচনে আগে কখনো এত বিশাল বহর হয়নি। মেয়র মোস্তাফিজুর জনবান্ধব ও দানবীর ব্যক্তি। এ কারণে সবাই তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

শহরের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, মেয়র আসছেন বলে বেলা তিনটা থেকে শহরের ব্যস্ততম পাঁচুর মোড় এলাকার যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছিল। মেয়র জনসমাবেশে পৌঁছার পর পাঁচুর মোড়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সমাবেশে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তফশিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়নের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমার জন্য অসংখ্য লোকজন দোয়া করেছেন। একসময় মনে হয়েছিল, আমি দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছি না। আমার পিতৃতূল্য বড় ভাই হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন।’

মোস্তাফিজুর রহমান অভিমানের সূরে আরও বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর মেয়রের পদে আছি। আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি। কাউকে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে সহায়তা করিনি। সব সময় জনগণের পাশে থেকে সেবা করেছি। আমার কাছে সাহায্য চেয়ে কখনো ফিরে যাননি। হ্যাঁ, আমার দোষ আছে। সেই দোষ কী? সেই দোষ হচ্ছে, আমি মেয়র নির্বাচিত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করেছি, আমার দোষ চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছে টাকা হাতিয়ে নেইনি।’

উল্লেখ্য, জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে আটজন নেতা আবেদন করেছিলেন। সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান ফের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পান।