ময়মনসিংহের গফরগাঁও

সাবেক সাংসদের বাড়ি সংস্কারে বাধা, ফেলা হলো আবর্জনা

সাবেক সাংসদ ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় আট বছর ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ। মাঝেমধ্যেই বাড়ির ভেতরে ফেলা হয় মলমূত্রসহ নানা আবর্জনা। সম্প্রতি মালিক বাড়িতে নতুন করে রং করানোর জন্য লোক পাঠান। কিন্তু দুর্বৃত্তরা কাজে বাধা দিয়ে মিস্ত্রিদের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেয়। রাতে গাড়িতে করে বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের ভেতর আবর্জনা ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় চাবি ফেরত পেলেও হুমকির ভয়ে মিস্ত্রিরা রঙের কাজ করতে যেতে চাইছেন না।

বাড়িটির অবস্থান ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের ইমামবাড়ি এলাকায়। বাড়ির মালিক ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সাবেক এই সাংসদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে বর্তমান সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলের লোকেরা বাড়িতে রং করানোর কাজে বাধা দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ।

গিয়াস উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী শাহানা আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গফরগাঁও আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। এরপর সাধারণ মানুষের অনুরোধে গফরগাঁও পৌর শহরের ইমামবাড়ি এলাকায় একটি একতলা বাড়ি করেন তিনি। তখন গফরগাঁও গেলে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ওই বাড়িতে যেতেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন ফাহমি গোলন্দাজ। এর পর থেকেই ফাহমি গোলন্দাজের রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়ে গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গফরগাঁও যাওয়া ছেড়ে দেন। এতে প্রায় আট বছর ধরে গফরগাঁও পৌর শহরের বাড়িটি তালাবদ্ধ।

শাহানা আহমেদ বলেন, তাঁরা সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেন, বাড়িটি রং করে ভাড়া দিয়ে রাখবেন। এ সিদ্ধান্তের পর গত রোববার বাড়িটিতে রং করার কাজ করতে যান কয়েকজন রংমিস্ত্রি। কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর ৪০-৫০ জন দুর্বৃত্ত গিয়ে মিস্ত্রিদের হুমকি দিয়ে চাবি কেড়ে নেয়। পরে ভয়ে মিস্ত্রিরা চলে যান। ওই রাতেই পৌরসভার ময়লার গাড়িতে করে বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের ভেতর আবর্জনা ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনা জানার পর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রথমে সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজকে ফোন করেন। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। পরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে গফরগাঁও থানার পুলিশ বাড়ির চাবি উদ্ধার করে দেয়।

শাহানা আহমেদ আরও বলেন, পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় চাবি ফেরত পেলেও এখন আর কোনো ধরনের শ্রমিক বাড়িতে কাজ করতে যেতে চাইছেন না ভয়ে। এমনকি বাড়ির ভেতর ফেলা আবর্জনা সরানোর কোনো লোকও পাওয়া যাচ্ছে না। শাহানা আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সাংসদের অনুসারীদের উছৃঙ্খলতার কারণে আমরা এখন গফরগাঁও যাই না। তবু তাদের প্রতিহিংসা থেকে আমরা মুক্তি পাই না। তালাবদ্ধ বাড়িতে তারা আবর্জনা ফেলে রাখে। সিমেন্ট দিয়ে তালা নষ্ট করে রাখে। একজন সাবেক সাংসদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাই যখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন সাধারণ মানুষ কেমন আছে?’

তবে সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ বলেন, সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গফরগাঁও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে এবং সাধারণ মানুষের মন থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। কাজেই তাঁর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নেই। দীর্ঘ সময় পরে তিনি (গিয়াস উদ্দিন আহমেদ) আবার আলোচনায় আসার জন্য নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে অপপ্রচার করছেন বলে ধারণা সাংসদের। বাড়ির কাজে তাঁর কোনো লোক বাধা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে রং করার কাজে বাধা দিচ্ছে জানার পরই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে শ্রমিকেরা ভয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন না, সেটি জানানো হয়নি। জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।