পটুয়াখালী ইজিবাইক শ্রমিক ও বাস মালিক সমিতির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জেরে আজ বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রুটে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বিকেল ছয়টার দিকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক করে সমঝোতায় এলে বাস মালিক সমিতি জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বাস মালিক সমিতির চেকপোস্ট বসিয়ে ইজিবাইকশ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে আজ সকালে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন ইজিবাইকচালকেরা। এই কর্মসূচির পরপরই পটুয়াখালী বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার যান চলাচল বন্ধ করে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কে যান চলাচলের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক করে সমঝোতায় এলে বাস মালিক সমিতি জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।
এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিকেল চারটায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই সভায় জেলা প্রশাসক ছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার মোর্শেদ এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইজিবাইক শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগ পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মুসফিকুর রহমান মিলন মাঝি, যুগ্ম সম্পাদক মাসুম মৃধা, অটোবাইক সমিতির সভাপতি শাহিন তালুকদারসহ নেতারা এবং জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষে জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি দাবিদার রিয়াজউদ্দিন মৃধা, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান, শামীম মৃধা, আশরাফ হাওলাদারসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাসশ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন ফোকান প্যাদা।
বৈঠক শেষে বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষে রিয়াজউদ্দিন মৃধা বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সড়কে যানবাহন চলাচল করবে। আমরা দুই পক্ষই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি।’ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।