
ভবন নির্মাণে ৬০ গ্রেডের রড ব্যবহারের কথা। অথচ আনাা হয় গ্রেডবিহীন রড। বিষয়টি নজরে পড়লে কর্তৃপক্ষ তা সরিয়ে ফেলতে বলে। তবু ওই রড দিয়েই কাজ চলছিল। রোববার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তা দেখে ফেলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় তাঁরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ভবানীপুর এলাকার নির্মাণাধীন তৈমুছ আলী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। ‘মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এম এন এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। দেড় বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে একাডেমিক ভবনের তিনতলা ও প্রশাসনিক ভবনের চারতলার ছাদের কাজ চলছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ৬০ গ্রেডের রড ব্যবহারের কথা। ২৩ মে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কাজের অগ্রগতি দেখতে যান। তখন ১২-১৩ মেট্রিক টন গ্রেডবিহীন নিম্নমানের রডের মজুত দেখতে পান। তাঁরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে ওই রড দ্রুত সরিয়ে ফেলতে বলেন। ২৫ মে আবারও গিয়ে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের তিনতলার ছাদে নিম্নমানের কিছু রড রাখতে দেখা যায়। পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। রোববার বেলা একটার দিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বড়লেখা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন ও জুড়ী উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোহাম্মদ রাহী পরিদর্শনে যান। এ সময়ও সেখানে নিম্নমানের রড মজুত রাখা ছিল।
এ ঘটনা জুড়ী উপজেলার ভবানীপুর এলাকার নির্মাণাধীন তৈমুছ আলী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের।
প্রশাসনিক ভবনের চারতলার ছাদের বিমে নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হচ্ছিল। এরপর তাঁরা কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান (প্রধান মিস্ত্রি) আতাউর রহমান দাবি করেন, সম্প্রতি তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্য কাজ দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় স্কুলের কাজে নিযুক্ত শ্রমিকেরা ভুলে এ কাজ করে ফেলেছেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন ও আবু সাঈদ মোহাম্মদ রাহী প্রথম আলোকে বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিম্নমানের রড সরাননি। তাঁদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই রড দিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তাই কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাঁরা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।