
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত বছর করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য দুটি বুথ নির্মাণ করা হয়েছিল। বুথ দুটি পড়ে আছে। হাত ধোয়ার জন্য বেসিন তৈরি করা হয়েছিল। বেসিনে ময়লা–আবর্জনা। সেখানে নমুনা দেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের বসার জন্য যে শেডটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেখানেই করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই সেখানে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বলাই।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা বুথে গিয়ে দেখা যায়, বুথ দুটি ফাঁকাই পড়ে আছে। বুথের পাশেই দুটি বেসিন রয়েছে। তাতে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে কালো পানি জমে আছে। যে ছাউনিতে রোগীদের বসার জন্য জায়গা করা হয়েছিল, সেখানেই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ মানুষের মধ্যে দেখা গেল না। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও কোনো উদ্যোগ নেই। সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গিয়ে দেখা যায়, একজন রোগীকে ট্রলি থেকে নামানো হচ্ছে, সেই ট্রলির পাশে আট-দশজন মানুষ ভিড় করছেন। তাঁদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই। হাসপাতালের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে কোনো তাগাদা দেওয়া হচ্ছে না।
হাসপাতালের ভেতরে যে নলকূপগুলো রয়েছে, সেখানে রোগীর স্বজনেরা পানি নেওয়ার জন্য একইভাবে ভিড় করেন। আবার যাঁরা রোগীদের ট্রলি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদেরও সবার মুখে ঠিকমতো মাস্ক লাগানো থাকে না। মাত্র কয়েক দিন আগেরই একটি ঘটনা, আইসিইউ থেকে ছাড়া পাওয়া একজন রোগীকে নিয়ে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একজন রোগীর স্বজন। তাঁর ট্রলি ঠেলছেন যে লোকটি, তাঁর মাস্কটি ঠিকমতো পরা নেই। দাগ লাগানো ময়লা মাস্কটির দিকে তাকানোর উপায় নেই। কোভিড রোগীর ট্রলি ঠেলে এভাবেই মাস্ক ঠিকমতো না পরেই লোকটি আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামালের চেম্বারে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই চিকিৎসক তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দেন।
হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি নজরে নিয়ে আসলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা নমুনা নিচ্ছেন, তাঁদের টিকা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া মানুষের ভয় কেটে গেছে। তারপরও তিনি বিষয়টি দেখবেন।
জরুরি বিভাগের ব্যাপারে পরিচালক বলেন, জরুরি বিভাগকে তিনি দুই ভাগে ভাগ করে ফেলছেন। এখন থেকে করোনা রোগীরা এক পাশে আর সাধারণ রোগীরা আরেক পাশে থাকবেন। তিনি বলেন, করোনা ওয়ার্ডের ভেতরেও রোগীর স্বজনেরা থাকছেন। তাঁরাও ঠিকমতো মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। তাহলে সবার জন্যই মঙ্গল।